fbpx

The BD Daily

  • স্বাক্ষাতকারে তরুণ উদ্যােক্তা তানজীর আরাফাত তূর্য

    বিহাইন্ড দ্যা স্টাডি নামক অনলাইন ট্যালেন্ট শেয়ারিং প্লাটফর্মের প্রতিষ্ঠাতা মোঃ তানজীর আরাফাত তূর্য তার ইচ্ছা,উদ্দেশ্য ও কঠিন পরিশ্রমের সম্বনয়ে বর্তমানে একজন সফল তরুণ উদ্যােক্তা।

    ২০০৫ সালের ৬ অক্টোবর তূর্যের জন্ম।২০২১ সালে ঢাকার স্বনামধন্য আইডিয়াল স্কুল থেকে মাধ্যমিক দিয়েছেন তিনি এবং বর্তমানে শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র।

    উদ্যােক্তা জীবন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তূর্য বলেন,

    আমি চাই পড়া লেখার পাশাপাশি যেনো স্টুডেন্টরা অন্যান্য স্কিলগুলো শো করতে পারে এবং সেগুলো গ্রো করতে পারে।প্রত্যান্ত অঞ্চলের একজন শিক্ষার্থীও যেন তার নিজের ভেতরে থাকা প্রতিভা সকলের সামনে শেয়ার করতে পারে সেই ব্যবস্থা করে দেয়ার সুযোগ করে দিতে চাই এবং আমাদের সামনে ম্যাগাজিন এবং ব্লগ সাইটের জন্য আরও কিছু বিষয় আসবে তা নিয়ে আমি ব্যাপুল আশাবাদী।

    তূর্য আরো বলেন, তার প্ল্যাটফর্মের সর্বশেষ কুইজ আয়োজনে অনলাইনে প্রতিযোগী ছিলো ১৫ হাজারের অধিক,দেশের মানুষের প্রতিভা বিকাশে কাজ করে যেতে চান তূর্য।

    উদ্যােক্তা হবার ইচ্ছেটা কিভাবে শুরু হলো?আর উদ্যােক্তা হয়ে উঠতে কোনো সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছিলো কি তোমার?

    তূর্য- সমস্যা তো ছিলোই। প্ল্যানের মধ্যে গ্যাপ থাকতো কিন্তু, যতোদিন যাচ্ছে আমি নিজেও শিখছি এবং আরো গ্রো করার চেষ্টা করছি

    পরিবার থেকে সাপোর্ট কেমন?

    তূর্য- প্রথমে খুব একটা সাপোর্ট পাইনি, কিন্তু এখন আলহামদুলিল্লাহ্‌ পাচ্ছি যদিও আমার বাবা মা কে আমার কাজ, ইচ্ছা নিয়ে বুঝাতে অনেক সময় লেগেছে।

  • জলাতঙ্ক

    জলাতঙ্ক এমন একটি মারাত্মক রোগ যা একবার হলে রোগীকে বাঁচানো বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। ইংলিশ এই জলাতঙ্কের কারণে বিশ্বব্যাপী ১০ মিনিটে একজন এবং প্রতি বছর প্রায় ৫৫ হাজার মানুষ এবং বেশ কয়েক লাখ প্রাণী মারা যায়। বাংলাদেশেও বছরে গড়ে ৪০ থেকে ৫০ জন রোগী মৃত্যুবরণ করে এই জলাতঙ্কের কারণে। তবে বর্তমানে চিকিৎসা উন্নতি হওয়ার কারণে এই রোগ প্রতিরোধ করা কিছুটা সম্ভব হয়েছে। এই রোগ প্রতিরোধের লক্ষ মানুষকে সচেতন করার জন্য প্রতিবছর ২৮সেপ্টেম্বর পালিত হয় বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস।

    মানুষ বা প্রাণী রেবিস ভাইরাস আক্রান্ত হলে যে রোগের লক্ষণগুলো প্রকাশ পায় তাকে জরাসংকো বলে। কুকুর,বিড়াল,বানর,বাদুড়, বেজি, শিয়াল ইত্যাদি যদি রেবিস ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত পানি যদি মানুষকে কামড়ায় তখন সে মানুষ গবাদিপশু শরীরের রেবিস ভাইরাস স্থানান্তরিত হতে পারে। এই রেবিস ভাইরাস মূলত প্রাণীদেহের লালা এবং রক্তের মাধ্যমে এক প্রানী থেকে অন্য প্রানীতে ছড়িয়ে পড়ে। এই লালা এবং রক্ত কোন ভাবে সুস্থ প্রাণীর রক্তের সংস্পর্শে আসলে রক্তের মাধ্যমে সারা শরীরে জলাতঙ্ক রোগ সৃষ্টি করে। আমাদের দেশে প্রায় ৯৫% জলাতঙ্ক রোগ হয় কুকুরে কামড়ানোর ফলে এবং তার মধ্যে ৪০ শতাংশই হলো ১৫ বছরের কম বয়সী শিশু। রেবিস ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তির মুখের লালায় ৪০ দিন থাকে। রেবিস ভাইরাস একবার সুস্থ ব্যক্তির ফুসফুসে প্রবেশ করলে তা ধীরে ধীরে স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে মস্তিষ্কে পৌঁছায় এবং গলবিল ও খাদ্যনালীর মাংসপেশির কাজ নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ুকে আক্রমণ করে। সাধারণত দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে এ রোগের লক্ষণ প্রকাশ পেয়ে যায়। তবে সময়সীমা এক সপ্তাহ থেকে এক বছর হতে পারে। রেবিস ভাইরাস এ আক্রান্ত ব্যক্তি বা প্রাণীটির আক্রমণাত্মক হয়ে যায় এবং অল্পতেই কামড় দেয়। এই ধরনের প্রাণী দের রেবিড এনিমেল বলা হয়ে থাকে।

    রাবিশ এর লক্ষণ শুধু পানির প্রতি আতঙ্কিত হয় নয়। এর আরো কিছু লক্ষণ রয়েছে। যেমন:-
    ১) ব্যক্তির আচরনে অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়
    ২) আক্রান্ত ব্যক্তি উদ্দেশ্যহীন ভাবে ঘুরে বেড়ায়
    ৩) খাওয়া-দাওয়ার অরুচি হয়
    ৪) ক্ষত প্রাপ্ত স্থানে ব্যথা বা চুলকানি
    ৫) উজ্জ্বল আলো বা কোলাহলে না থাকতে চাওয়া
    ৬) শরীরের নানা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নাড়ানোর অক্ষমতা
    ৭) মেজাজ খারাপ থাকা
    ৮) অন্যকে আক্রমণ ও কামড় দেওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়া। ইত্যাদি
    জলাতঙ্ক আক্রান্ত ব্যক্তির প্রচুর পানি পিপাসা পেলে ও পানি দেখলে তারা ভয় পায়। এরা অন্ধকারও একাকী থাকতে পছন্দ করেন। তবে শুধু পানি নয় আক্রান্ত ব্যক্তিরা খাবার খেতে ও কষ্ট পায়।

    এই রেবিস ভাইরাস প্রতিরোধে টিকা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই রোগের লক্ষণ দেখা দেওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে রোগী মারা যায়। এর কোন এন্টিভাইরাস ওষুধ নেই যে এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে। তবে জলাতঙ্ক রোগের বিরুদ্ধে রয়েছে কার্যকর টিকা,যা রোগের লক্ষণ প্রকাশের আগে শরীরের প্রয়োগ করতে পারলে মৃত্যু এড়ানো সম্ভব।

    ক্ষতস্থানে তীব্রতা ও আধিক্যের উপরে ভিত্তি করে জলাতঙ্কের দুই ধরনের টিকে রয়েছে। কারও ক্ষেত্রে এক ধরনের টিকা প্রয়োগ করতে হয় আবার কারো কারো ক্ষেত্রে দুই ধরনের টিকাই প্রয়োগ করা প্রয়োজন। যত তাড়াতাড়ি টিকা নেওয়া যায় ততই ভালো। সাধারণত টিকা নেওয়ার প্রথম দিনের পর ৩,৭,১৪,২১,২৮ তম দিনে টিকার মোট ছয়টি ডোজ প্রয়োগ করতে হয়। তবে পশু চিকিৎসক, উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত ব্যক্তি এবং যারা বাড়িতে কুকুর বিড়াল পোষে তাদের জলাতঙ্ক প্রতিরোধমূলক টিকা দেওয়া হয়। এই ব্যক্তিদের প্রথম দিন সহ ৩,৭,২৮ তম দিনে টিকার তিনটি ডোজ সহ প্রতিবছর বুষ্টার দেওয়া হয়। জলাতঙ্ক প্রতিরোধে পৌরসভা প্রশাসক প্রাণীদের জলাতঙ্কের টিকার কার্যক্রমের আওতায় আনা প্রয়োজন।

    কোন প্রাণী আচর বা কামড় দিলে শুরুতেই ক্ষতস্থানে রক্তপাতে তীব্রতা খেয়াল করে তার চেপে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রক্তপাতের তীব্রতা বন্ধ করতে হবে। এরপর সাবান ও পানি ব্যবহার করে ক্ষতস্থান তো অনেকক্ষণ যাবৎ দিতে হবে। যাতে ক্ষতস্থানে ভাইরাস সহ অন্যান্য ব্যাকটেরিয়া জীবাণু ধ্বংস হয়ে যায়। এরপর দেরি না করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ক্লোরোহেক্সিডিন বা পোভিডোন ক্ষতস্থানটি ভালো করে পরিষ্কার করতে হবে। এর ফলে অর্ধেকের বেশি জলাতঙ্কের জীবানু নষ্ট হয়ে যায়। তারপর ক্ষতস্থানে এন্টিবায়োটিক বা মলম প্রয়োগ করতে হবে এবং ক্ষতস্থানে কোন সেলাই দেওয়া যাবে না। প্রয়োজনীয় ওষুধ সেবন এবং ক্ষতস্থান অবশ্যই প্রতিদিন পরিষ্কার রাখতে হবে। ক্ষতস্থানে কোন প্রকার স্যালাইন বরফ চিনি লবণ ইত্যাদি প্রয়োগ করা যাবে না। এ সময় কবিরাজ এবং ওঝার শরণাপন্ন না হয় সঠিক উপায়ে চিকিৎসা গ্রহণ করা উচিত।

  • বিগ ব্যাং

    আমরা সকলেই পৃথিবী নামক গ্রহে বাস করি । পৃথিবী কিভাবে সৃষ্টি হয়েছে তা আমরা অনেকেই জানি আবার অনেকের কাছে এখনো তা অজানা। বিজ্ঞানীরা তাদের গবেষণার মাধ্যমে অনেক তথ্য প্রকাশ করেছে । মহা বিস্ফোরণের মাধ্যমে মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয়েছে। মহাবিস্ফোরণ কে বিগ ব্যাং তত্ত্ব বলা হয়।এই তত্ত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো কোনও ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার পরিবর্তে একটি বিশেষ মুহূর্তে মহাবিশ্বের উদ্ভব। এই তত্ত্ব অনুযায়ী আজ থেকে প্রায় ১ হাজার ৩৭৫ কোটি বছর পূর্বে এই মহাবিশ্ব একটি অতি ঘন এবং উত্তপ্ত অবস্থা থেকে সৃষ্টি হয়েছিল। মহাবিশ্বের পূর্বের অবস্থা এবং বর্তমান অবস্থা আলাদা। বিজ্ঞানীরা মহাবিশ্ব সম্পর্কে গবেষণা করে নানা ধরনের তথ্যে্র সন্ধান পেয়েছেন। বিগ ব্যাং তত্ত্বের মাধ্যমে আমরা মহাকাশে সব ধরনের তথ্য সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাই।বিজ্ঞানী এডুইন হাবল টেলিস্কোপ এর মাধ্যমে মহাবিশ্বের তথ্য সংগ্রহ করা শুরু করেন। তিনি একদিন আকাশে তার বিখ্যাত টেলিস্কোপ এর সাহায্যে মহাকাশ পর্যবেক্ষণ করেছিলেন তখন তিনি দেখতে পান গ্যালাক্সি গুলো একে অপরের থেকে অনেকটা দূরে সরে আছে তখন তিনি মনে করেন যে এই গ্যালাক্সিগুলো এখন এত দূরে দূরে থাকলেও হয়তো আগে এরা অনেক কাছাকাছি ছিল। আগে মহাবিশ্ব অতি উওপ্ত ও ঘন ছিল ।সমগ্র মহাবিশ্ব একটি সুপ্রাচীন বিন্দুবৎ অবস্থা থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে।মহাবিস্ফোরণ শব্দটি স্থূল অর্থে প্রাচীনতম একটি বিন্দুর অতি শক্তিশালী বিস্ফোরণকে বোঝায় যার মাধ্যমে মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয়েছিল, আবার অন্যদিকে এই বিস্ফোরণকে কেন্দ্র করে মহাবিশ্বের উৎপত্তি ও গঠন নিয়ে বিশ্বতত্ত্বে যে মতবাদের সৃষ্টি হয়েছে তাকেও বোঝায়।মহাবিস্ফোরণের একটি উল্লেখযোগ্য ফলাফল হল, বর্তমানে মহাবিশ্বের অবস্থা অতীত এবং ভবিষ্যতের অবস্থা থেকে সম্পূর্ণ পৃথক। এই তত্ত্বের মাধ্যমেই ১৯৪৮ সালে জর্জ গ্যামফ অনুমান করতে পেরেছিলেন যে, মহাজাগতিক অণুতরঙ্গ পটভূমি বিকিরণের অস্তিত্ব রয়েছে। ১৯৬০-এর দশকে এটি আবিষ্কৃত হয় এবং স্থির অবস্থা তত্ত্বকে অনেকটাই বাতিল করে মহাবিস্ফোরণ তত্ত্বকে প্রমাণ করতে সমর্থ হয়।বর্তমানে আমরা মহাবিশ্বকে যেভাবে দেখি, মহাবিশ্বের ঊষালগ্নে এর প্রকৃতি কিন্তু এরকম ছিল না, এটি ছিল অনেকটাই আলাদা। আজকের দিনে আমরা চারটি মৌলিক বলের কথা শুনতে পাই। সেগুলো হলো- সবল নিউক্লিয় বল, দুর্বল নিউক্লিয় বল, তাড়িতচৌম্বক বল এবং মাধ্যাকর্ষণ বল। বিজ্ঞানীদের ধারনা এই চারটি বল ‘সুপার ফোর্স’ বা অতিবল হিসেবে একসাথে মিশে ছিল। সে ভাবেই ছিল তারা মহাবিস্ফোরণের ঊষালগ্ন থেকে শুরু করে ১০-৪৩ সেকেন্ড পর্যন্ত। প্রথম এক সেকেন্ডেও মহাবিশ্ব ছিল যেন জ্বলন্ত এক নিউক্লিয় চুল্লি। তাপমাত্রা ছিল একশ কোটি ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের চেয়েও বেশি। সেসময় কোন চেনা জানা কণা ছিল না, চারদিক পূর্ণ ছিল কেবল প্লাজমার ধোঁয়াশায়। এক সেকেন্ড পরে কোয়ার্ক, ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রনের মত মৌলিক কণিকাগুলি তৈরি হয়। তিন সেকেন্ড পরে প্রোটন আর নিউট্রন মিলে তৈরি হল নিউক্লিয়াস, এর পরে যথাক্রমে হাইড্রোজেন, হিলিয়াম, লিথিয়াম। তবে মহাবিশ্বের উদ্ভবের প্রায় কয়েক লক্ষ বছর পর্যন্ত আমরা যাকে জড়পদার্থ বা ম্যাটার বলি সেরকম কিছুই তৈরি হয় নি। তখন আসলে রঞ্জন রশ্মি, আর বেতার তরঙ্গের মত লম্বা দৈর্ঘ্যের অতি তেজী রশ্মিগুলোই বরং পদার্থের উপর রাজত্ব করছিল। প্রায় চার লক্ষ বছর পরে তাপমাত্রা খানিকটা কমে তিন হাজার ডিগ্রি কেলভিনে নেমে আসার পরই কেবল প্লাজমা থেকে স্থায়ী অণু গঠিত হবার মত পরিবেশ তৈরি হতে পেরেছে। এসময় মহাবিশ্বের কুয়াশার চাদর ধীরে ধীরে সরে গিয়ে ক্রমশ স্বচ্ছ হয়ে আসে, পথ তৈরি হয় ফোটন কণা চলাচলের। আর তার পরই কেবল তেজস্ক্রিয় রশ্মিসমূহের উপর জড় পদার্থের আধিপত্য শুরু হয়েছে। বিগ ব্যাং তত্ত্ব সম্পর্কে ভবিষ্যতেও আমরা আরো নতুন নতুন জ্ঞান লাভ করতে পারব বিজ্ঞানীরা এখনো এর ওপর গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে।

  • ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠার ইতিহাস,বর্তমান অবস্থা; মঙ্গল গ্রহে ও চাদেঁ ইন্টারনেট নিয়ে পরিকল্পনা

    বিশ্ব যত আধুনিক হচ্ছে আমরা ততোই ইন্টারনেট নামক জিনিসটা দিকে অগ্রসর হয়ে যাচ্ছি। একসাথে অনেকগুলো কম্পিউটার নেটওয়ার্কের কার্যক্রমই হলো ইন্টারনেট। ইন্টারনেট ছাড়া পৃথিবীতে এক নেটওয়ার্কের মধ্যে যুক্ত করেছে।

    ইন্টারনেটকে সাধারণত আমরা নেট বলে থাকি। ইন্টারনেট শব্দটি এসেছে মূলত ‘ইন্টারকানেক্ট’ এবং ‘নেটওয়ার্ক’ এই দুটি শব্দের সমন্বয়ে। ইন্টারনেট শব্দের অর্থ হলো অন্তর্জাল। ইন্টারনেট পুরো পৃথিবীতে একটা পরিবারের মত করে তুলেছে।

    ইন্টারনেট আমাদের জীবনে বন্ধুর মতো। আমাদের জীবনে ইন্টারনেটের অবদান অস্বীকার করার মতো নয়। ইন্টারনেট আমাদের জীবনে নানা উপকারে আসে। ১৯৬০ সালে প্রথম ইন্টারনেট এর সূচনা হয়েছিল। আমেরিকান সামরিক বাহিনীর গবেষণা সংস্থা আরপা (অ্যাডভান্স এই রিসার্চ প্রজেক্ট এজেন্সি ARPA) পরীক্ষামূলকভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণাগার এর মধ্যে যোগাযোগের ব্যবস্থা গড়ে তুলে। তারা এটির নাম দেয় আরপানেট (অ্যাডভান্স রিসার্চ প্রজেক্ট এজেন্সি নেটওয়ার্ক ARPANET)। এই আর্পানেট এর মাধ্যমে এসেছে আমাদের আজকের এই ইন্টারনেট। ১৯৬৯ সালে ২৯শে অক্টোবর প্রথম আরপানেটের মাধ্যমে ইন্টারনেট একটি নোড থেকে অন্য একটি নোবেল ম্যাসেজ পাঠায়। ১৯৮৯ সালে আইএসপি দ্বারা ইন্টারনেট সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। ১৯৯০ এর পরবর্তী সময় থেকে পশ্চিমা বিশ্বে ইন্টারনেট ব্যাপক বিস্তৃতি লাভ করে।

    ইন্টারনেটের জনক বলা হয় ভিনটন জি কার্ফ। তিনি তার এই উপাধিটি আমেরিকান কম্পিউটার বিজ্ঞানী রবার্ট কানের সাথে ভাগ করেছেন। ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অ্যাডভান্স রিচার্জ প্রজেক্ট এজেন্সিতে প্রযুক্তি বিকাশ করতে কাজ শুরু করেন।

    আমরা যদি কয়েক বছর আগের সময় দেখি, তখন দেখা যাবে যে ইন্টারনেটের ব্যবহার এতো অধিক পরিমাণে হতো না। তবে এখন ইন্টারনেট ব্যবহার ও এর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। প্রথমাবস্থায় ইন্টারনেট শুধুমাত্র বৈজ্ঞানিক গবেষণায় ইত্যাদি কাজে ব্যবহার করা হতো। কিন্তু এখন সর্ব সাধারন মানুষ ইন্টারনেটের ব্যবহার করতে জানে। ইন্টারনেট আমাদের জীবনকে অনেক সহজ করে দিয়েছে। ইন্টারনেটের ব্যবহার এখন প্রায় সকল ক্ষেত্রেই হয়। ইন্টারনেটের ব্যবহার করে আমরা,-
    •নিজেদের বিনোদন দিতে পারি।
    •ব্যাংকের কাজ সম্পন্ন করতে পারি।
    •ইন্টারনেট আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক সহজ করে দিয়েছে।
    •শিক্ষার ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের ব্যবহার প্রচুর। ঘরে বসেই যে কোন বিষয় সম্পর্কে আমরা জ্ঞান অর্জন করতে পারি।
    •জরুরী ভিত্তিতে ইমেইল আদান-প্রদান করতে পারি
    •বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের লোকেদের সাথে যোগাযোগ করা যায় এই ইন্টারনেটের মাধ্যমে।
    •বর্তমানে অনলাইনে পড়াশোনার ক্ষেত্রে ইন্টারনেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
    •ঘরে বসে বিনা খরচে অনলাইনে নিউজ পড়া যাচ্ছে।
    •ঘরে বসেই যে কোন বিল পেমেন্ট ও রিচার্জ করা সম্ভব হয়ে গেছে।
    •অনলাইন থেকে অনেক লোকেরা টাকা আয় করার সুযোগ পাচ্ছে।
    এই সুবিধাগুলো ছাড়াও ইন্টারনেট ব্যবহারের অনেক সুবিধা রয়েছে।

    বর্তমানে প্রায় সব দেশেই ইন্টারনেটের ব্যবহার শুরু হয়ে গিয়েছে। বাংলাদেশে ইন্টারনেটের ব্যবহার শুরু করা হয় ১৯৯৩ সালে এবং তা সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয় ১৯৯৬ সালে। বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে চীন। দ্বিতীয় ভারত ও তৃতীয় যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী দেশ গুলোর মধ্যে পঞ্চম স্থানে অবস্থানরত। বর্তমানে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১১ কোটিরও বেশি।

    যুগের সাথে সাথে ইন্টারনেটের প্রভাব দিন দিন বেড়েই চলেছে। এখন মহাকাশ থেকে ইন্টারনেটের ব্যবহার করা যাবে এমন ব্যবস্থা করে দিয়েছেন ইলন মাস্ক নামক একজন বিজ্ঞানী। তার কম্পানি ‘স্পেস এক্স’ স্যাটেলাইট থেকে ইন্টারনেট সেবা দিতে যাচ্ছে। তারা এই সেবাটির নাম দিয়েছে “স্টারলিংক”। তারা সহজেই ইন্টারনেট সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার জন্য 700 কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে পাঠানোর পরিকল্পনা করেছেন। এই বিষয়ে ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছেন, তারা 250 পাউন্ড এর চেয়েও কম ওজনের 67 কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে পাঠাতে চান। তাদের লক্ষ্য হলো মহাকাশ থেকে কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে সুবিধা দেওয়া। এই সেবা দেওয়া শুরু হলে ইন্টারনেট জগতে এক বিরাট পরিবর্তন আসবে। এই প্রতিষ্ঠানকে ১০০ কোটি মার্কিন ডলার টাকা দিয়েছেন গুগল ও ফিডেলটি। এ টাকা বিনিয়োগের ফলে স্পেসএক্সের ১০০ শতাংশের মালিকানার পেয়ে যায় গুগোল ও ফিডেলটি। আগামী 12 বছরের মধ্যে মঙ্গল গ্রহে বসতি স্থাপন করতে চান স্পেস এক্স এর প্রতিষ্ঠাতা ইলেন। সেখানে একটি সংস্থাপন করার জন্য কাজ করছে স্পেস এক্স। এছাড়া বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট-সেবা দেওয়ার জন্য স্যাটেলাইট ও কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে সেবা দিয়ে যাচ্ছে স্পেস এক্স।

    স্পেসএক্স ছাড়াও মহাকাশে কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠানোর আর একটি প্রকল্প নিয়ে কাজ করেছে ওয়ানওয়েব নামক একটি কৃত্রিম উপগ্রহ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানটিকে বিনিয়োগ করেছে রিচার্ড ব্র্যানসনের ভার্জিন গ্রুপ এবং মার্কিন চিপ নির্মাণপ্রতিষ্ঠান কোয়ালকাম। মহাকাশ থেকে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সুবিধা দেওয়ার জন্য কাজ করছে এই প্রকল্পটি। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে, সারা বিশ্বে ইন্টারনেট সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার জন্য 648 কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে ওয়ানওয়েব। বর্তমানে প্রায় ৩০০ কোটি মানুষ এখনো ইন্টারনেট থেকে বঞ্চিত। রিচার্ড ব্র্যানসন বলেন, যেসব এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া সম্ভব মনে করা হতো সেই ৩০০ কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে ইন্টারনেট।

  • যুগের তালে সাদা-কালো পৃষ্ঠা থেকে মোবাইল ফোনে কমিক্স বুক

    আমরা অনেকেই কমিক বই পড়তে পছন্দ করি। কমিক হচ্ছে এক ধরনের চিত্র কথা। এখানে চিত্র অনুবর্তী ও পাশাপাশি প্যানেলের শব্দ বেলুনের মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু লেখা সংক্ষেপে বর্ণনা করা হয়ে থাকে। প্যানেলের বর্ণনায় গতি আনে এর আকার এবং অঙ্কন। কমিক্স বুক শব্দটি এসেছে আমেরিকার কমিক্স বই এর কমিক্স স্ট্রিপ থেকে। কমিক্সের সাধারণ চিত্রের মাধ্যমে তৈরি হয় কার্টুন।

    কমিক্সের ইতিহাস বিশ্বের একেক অঞ্চলে একেক রকম ভাবে অগ্রসর হতে থাকে। বিভিন্ন পুরানো সংস্কৃতিতেও কমিক্সের ইতিহাস পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞরা লাসকো গুহাচিত্র কে কমিক্সের প্রাথমিক ইতিহাস হিসেবে চিহ্নিত করেন।রোমের ট্রাজালের কলাম ছিল কমিক্স ছাপার ইতিহাসের অন্যতম একটি উদাহরণ। গ্রিক, ফিজেস,মিশরীয় হায়ারোগ্লাফিক্স এবং চিত্রিত পান্ডুলিপিতে অনুক্রমিক চিত্র এর ব্যবহার করা হতো। বাইবেলের চিত্রগুলি নিরক্ষরদের কাছে শিক্ষা তুলে দেওয়ার জন্য খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা অনুবর্তী চিত্রের ব্যবহার করতেন।
    কমিক্স প্রথম আবিষ্কার করেন উইলিয়াম হোগার্থ। তার লেখা প্রথম কমিক্স যার নাম ছিল “এ রাকস প্রগেস”। এটি লেখা হয় আধুনিক মূল্যবোধের অনুসরণে। শিল্প বিপ্লবের অগ্রগতির ফলে মুদ্রণ কৌশল বিকাশ পায়,তখন ম্যাগাজিন এবং সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।এই প্রকাশনা গুলি মন্তব্য করার মাধ্যম হিসেবে চিত্রের ব্যবহার করতো যা ১৮৪২ সালে কার্টুন হিসেবে পরিচিতি পায়। এরপর থেকেই শিল্পীরা চিত্রের অনুক্রম ব্যবহারের জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন। উনিশ শতকের আগেও কমিক্স স্ট্রিপট স্ফটিক আকারে বের করা হয়নি।‌

    ১৮২৬ সালে প্রকাশিত “দ্যা গ্লাসগো লুকিং গ্লাস” কে চূড়ান্ত প্রথম কমিকস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এখানে আধুনিক কৌতুকের সব ধরনের উপাদান বিদ্যমান ছিল,শিরোনাম এবং ধারাবাহিক উপস্থিত ছিল। রডল্ফ ট্যাপার ছিলেন একজন অন্যতম কমিকস লেখক। তিনি ওই সময় অনেক প্রভাবশালী কমিক লেখক হিসেবে বিবেচিত ছিলেন। তার লেখা কমিকস গুলো ওই সময়ে প্রচুর বিস্তৃতি লাভ করে।

    বিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ফ্রান্স বেলজিয়াম জাপান এই দেশগুলোতে কমিকসের ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। আমেরিকায় ১৮৪২ সালের মুদ্রণ হয় “হার্ডকভারে দ্যা অ্যাডভেঞ্চারস অফ মি ওবাদিয়াহ ওল্ডবাক”। এই কমিক্সটি মার্কিন কমিকসের আদিরূপ হিসেবে পরিচিত। ইতিহাসবিদদের কথা অনুসারে “ফেমাস ফানিজ: অ্যা কার্নিভাল কমিকস” প্রথম সত্তিকারের মার্কিন কমিকসের উদাহরণ। ১৯৩৮ সালে জো শুষ্ঠার ও জেরি সিগেল মিলে “সুপারম্যান” কমিকসটি তৈরি করেন।মার্কিন কমিক বুক এর সোনালী সূচনা হয় ১৯৩৮‌ সালে সুপারম্যান কমিক বুক টি দিয়ে। এসময় কমিক বুক এর সর্বোচ্চ বিক্রি হয়। কমিক বুকের রৌপ্য যুগের সূচনা হয় হাজার ১৯৫৬ সালে এবং সমাপ্তি হয় ১৯৬০ দশকের শেষের দিকে যখন মার্ভেল কমিকস স্ট্যান লি,ফ্যান্টাস্টিক ফোর ও স্পাইডারম্যান কমিকস উপস্থাপন করা হয়। ব্রোঞ্জ যুগ ১৯৭০ শুরু থেকে ১৯৮০দশকের মধ্যভাগ পর্যন্ত ছিল। কমিকস বইয়ের আধুনিক যুগ ১৯৮০ এর মধ্যভাগ থেকে বর্তমানে চলছে।

    ফ্রান্স ও বেলজিয়ামে কমিক এর ইতিহাস ব্যাপক। ফরাসি ভাষায় কমিকস কে “বান্দে দেসিনি” ও ওলন্দাজ ( বেলজিয়ামের ভাষা) ভাষায় এটাকে “স্টিপ” বলা হয়। বান্দে দেসিনি নামটি এসেছে ড্রন স্ট্রিপ থেকে যার অর্থ ফিল্ম স্ট্রিপের‌ চিত্র ধারার বিপরীত। ফরাসি পণ্ডিতদের কাছে “শর্মা ন্যুভিয়েম শিল্প” কমিক্সের স্বাতন্ত্র হিসেবে প্রচলিত কারণ এতে কমিকসের ধারণা ও আলোচনা সমালোচনা করা হয়েছে। দেশের জনসংখ্যা অনুযায়ী ফ্রান্স ও বেলজিয়ামে প্রচুর পরিমাণে কমিক ছাপানো হয়। এসব দেশে বেশিরভাগ লেখকের বইয়ের প্রকাশনা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

    ১৮’শ শতাব্দীতে জাপানে প্রথম কমিকস প্রকাশিত হয়। এতে ঐতিহাসিক ঘটনাবলী লোকসাহিত্য কিংবদন্তি এবং ছোটগল্প থাকতো। ১৭৭৫ সালে প্রকাশিত হয় “কিনকিন সেন্সেই এইগা নু ইয়ুম”। এর লেখক ছিলেন কইকাওয়া হারুমাশির”‌এই কমিকসটি দ্বারা জাপানে কমিকসের সূচনা ঘটে। জাপানি কমিক্স বই এর বর্তমান রূপ ধারণ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সে সময় কমিকস বুক গুলো সাদাকালো পৃষ্ঠাতে মুদ্রণ করা হতো।

    বর্তমানে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির কারণে কমিকস প্রকাশনাসমূহ তাদের কমিক সমূহ ডিজিটাল পদ্ধতিতে অনলাইনে প্রকাশ করছেন। ফলে ওয়েবকমিকস বিস্তৃতি লাভ করছে। সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রকাশনা হল কমিক্সোলজি। তবে জনপ্রিয়তা লাভের পাশাপাশি কিছু কিছু প্রকাশনা বন্ধ ও হয়ে গিয়েছে।

  • “Google Sunglasses”- A flop project by Google

    Most of people does not know about google glass. Google Glass displays information in a smartphone-like, hands-free format developed by “Google X”. Google started selling a prototype of Google Glass to qualified “Glass Explorers” on May 15,2014. It’s price was about 1500 us dollar(1,25,000+taka in Bangladesh currency). It has a memory of 2gb and 16gb flash memory(12gb usable storage).On January 15, 2015, Google announced that it would stop producing the Google Glass prototype. Now In May 2019, Google announced the Google Glass Enterprise Edition 2 With price of 999$(85000+ in Bangladesh currency). But it was also a failure. People are were comfortable with the Google glass. They feel eye strain or develop a headache from Google Glass. Google Glass may curtail your natural peripheral vision. This is extremely dangerous because it may create blind spots that undermine safety while you engage in everyday tasks — like driving or walking. So this was a failed product by Google.