fbpx

ব্ল্যাক ফাঙ্গাসঃ প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম

ব্ল্যাক ফাঙ্গাসঃ প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বা মিউকরমাইকোসিস একটি ছত্রাকবাহিত রোগ যা মূলত মিউকরমাইসিটিস ছত্রাক থেকে হয়। এই ফাঙ্গাসজনিত রোগ বিরল হলেও আমাদের প্রতিবেশি দেশে এই ফাঙ্গাসের ভয়াবহ সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি আমাদের দেশে বর্তমানে দুইজন ব্যক্তির মাঝে এই ফাঙ্গাসের সংক্রমন দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে আতঙ্কিত না হয়ে বরং প্রতিরোধের মাধ্যমে এই ফাঙ্গাসজনিত রোগ থেকে সুরক্ষিত থাকা সম্ভব। সাধারণত শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহনের মাধ্যমে এই ফাঙ্গাস দেহে প্রবেশ করতে পারে। সাইনাস এবং নাকেই সাধারনত এই ফাঙ্গাসের ইনফেকশন হয় ফলে যখন সংক্রমিত স্থানে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হয় তখন ত্বকে বর্ণহীনতা দেখা দেয় আবার কখনও কখনও ত্বক কালো হয়ে যায় তাই এই ফাঙ্গাসকে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বলা হয়।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস


ব্ল্যাক ফাঙ্গাস সংক্রমণের প্রধান কারন হলো আমাদের দেহের দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা।যে সব ঔষধ সেবন বা চিকিৎসা গ্রহনের ফলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় ঐসব চিকিৎসা চলমান অবস্থায় থাকলেও রোগীর দেহে এই ফাঙ্গাসের সংক্রমণ দেখা দিতে পারে। ক্যান্সারের জন্য কেমোথেরাপির ফলে , করোনা আক্রান্ত রোগীরা বেশি দিন আইসিইউ-তে থাকলে এবং তাঁদের জন্যে স্টেরয়েডের ব্যবহার বেশি হলে,অনিয়ন্ত্রিত ডায়েবেটিসের ফলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় ।সুতরাং, এসকল রোগীরা এবং করোনায় সুস্থতার পরবর্তীতে যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে গেছে তারাই বর্তমানে বেশ ঝুঁকিতে রয়েছেন।
এই ফাঙ্গাসের সংক্রমনের কিছু লক্ষণ হলো ;মাথাব্যথা, জ্বর,কাশি, নাক বা সাইনাস বন্ধ হয়ে আসা,নাক কিংবা মুখে কালো ছোপ ছোপ দাগ দেখতে পাওয়া,চোখের নিচে ব্যথা, দৃষ্টিশক্তি কমে আসা।
প্রতিরোধের ক্ষেত্রে আমাদের যা করনীয়;
আমাদের আশেপাশের পরিবেশ পরিষ্কার পরিছন্ন রাখা,ফাঙ্গাসযুক্ত পচা-বাসি খাবার গ্রহন না করা , দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এমন খাদ্য গ্রহন করা,ডায়েবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বা প্রয়োজন ছাড়া স্টেরয়েড ব্যবহার না করা । তবে যাদের দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলক সবল তারা এই সংক্রমক ফাঙ্গাসের মারাত্মক ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত।গবেষকদের মতে, উপসর্গ দেখার সাথে সাথে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার বিকল্প নেই।
ব্ল্যাক ফাঙ্গাস সংক্রামক নয়। এটি এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির শরীরে প্রবেশ করতে পারে না। অতএব,আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনতার মাধ্যমে যথাসময়ে এই ফাঙ্গাসের সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে পারলে আমরা আমাদের পরিবার ,সমাজ এবং দেশকে সুরক্ষিত রাখতে সক্ষম হবো।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also
Close
Back to top button