fbpx

বাক্য শুদ্ধিকরণ


বাক্য শুদ্ধিকরণ

বিগত পরীক্ষায় বার বার লক্ষ্য করা যায় । তাই প্রথমে বাক্য শুদ্ধিকরণ নিয়ে আলোচনা শুরু করলাম।

নিয়ম-১. সমাসজনিত অশুদ্ধি: সমাসবদ্ধ পদ গুলো এক সাথে লিখতে হবে ,আলাদা লেখা যাবে না। যেমন-সংবাদপত্র,স্বভাবগতভাবে।

নিয়ম-২: আনি,আরি,আমি/নি,উনি,নি ইত্যাদি প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দে স্বভাবতই ই-কার হবে। যেমন-ভিখারি,রকমারি,ঘটকালি,চালাকি,সরকারি ইত্যাদি।

নিয়ম-৩ : তৎসম শব্দে ঋ, র, ও ষ এর পর মূর্ধন্য (ণ) ব্যবহৃত হবে। যেমন-ঋণ,কারণ,বিবরণ,তোরণ,উদাহরণ,ধারণ,প্রাণ,তৃষ্ণা,বিষ্ণু,রক্ষণ,বক্ষণ ইত্যাদি।
তিনি নৌকা থেকে অবতরন করলেন।
শুদ্ধঃ তিনি নৌকা থেকে অবতরণ করলেন।
‘অরন্য জনপদে’ একটি চমৎকার পুস্তক।
শুদ্ধ: ‘অরণ্য জনপদে’ একটি চমৎকার পুস্তক।
ভাতের ফেণ ফেলতে নেই
শুদ্ধঃ ভাতের ফেন ফেলতে নেই
ধ্বনির প্রতীকই হলো বর্ন
শুদ্ধঃ ধ্বনির প্রতীকই হলো বর্ণ
‘অরুন-বরুন-কিরনমালা’ একটা বাংলা ছায়াছবির নাম
শুদ্ধঃ ‘অরুণ-বরুণ-কিরণমালা’ একটা বাংলা ছায়াছবির নাম

বাক্য শুদ্ধিকরণ নিয়ম-৪ : উপসর্গের পর ই-কার ও উ-কার থাকলে পরর্তীতে ‘ষ’ (মুর্ধন্য-ষ) হয় অন্যথায় ‘স’ (দন্ত-স) হয়। যেমন-পরিষ্কার,আবিষ্কার,নিষ্পাদ,নিষ্কমা,দুষ্কর,নিষ্প্রাভ,নিষ্পন্ন ইত্যাদি।
এটি একটি মহৎ আবিস্কার।
শুদ্ধঃ এটি একটি মহৎ আবিষ্কার।
তার অভিষেক সম্পন্ন হয়েছে।
শুদ্ধঃ তার অভিষেক সম্পন্ন হয়েছে।
আমার আয়ুস্কাল ফিরবে না।
শুদ্ধঃ আমার আয়ুষ্কাল ফিরবে না।

বাক্য শুদ্ধিকরণ নিয়ম-৫. কিছু কিছু শব্দে অর্থবোধক ক্রটি পরিলক্ষিত হয়। যেমন-স্বস্ত্রীক (হবে সস্ত্রীক),সাক্ষী (হবে সাক্ষ্য),জ্যৈষ্ঠ পুত্র (হবে জ্যেষ্ঠ পুত্র) ইত্যাদি।
তিনি স্বস্ত্রীক বেড়াতে এসেছিলেন।
শুদ্ধঃ তিনি সস্ত্রীক বেড়াতে এসেছিলেন।
তার জ্যৈষ্ঠ পুত্র ও কনিষ্ঠ কন্যা বিদেশে গিয়েছে।
শুদ্ধঃ তার জ্যেষ্ঠ পুত্র ও কনিষ্ঠ কন্যা বিদেশে গিয়েছে।
আমি সাক্ষি দিয়েছি
শুদ্ধঃ আমি সাক্ষ্য দিয়েছি।

বাক্য শুদ্ধিকরণ নিয়ম-৬. অ-কার-এর পরবর্তী বর্ণে স (তন্ত-স) যুক্ত হয়।
যেমন- নমস্কার, তিরস্কার, মনস্কামনা, ভাস্কর ইত্যাদি।
১। তাদের যথোচিত পুরস্কার দাও।
২। মনস্কামনা পূর্ণ না হওয়ায় সে মনো¯াÍপে ভুগছে।
৩। তোমরা সুখে-দু:খে পরস্পরের সাথী হও।
৪। সংস্কৃত ‘মনস্’ থেকে ‘মনস্কাম’ শব্দটি এসেছে।

বাক্য শুদ্ধিকরণ নিয়ম: ৭. তৎসম শব্দে ট ও ঠ-এর সাথে ‘ষ’ (মূর্ধন্য-ষ) যুক্ত হয়।
যেমন- পুষ্টি, মুষ্টি, ষষ্টি, চেষ্ঠা, বিনষ্ট, ষ্টোর, ষ্টেশন, ষ্টিমার, কাস্টমার ইত্যাদি বানানে অবশ্যই দন্ত-স(স) হবে।
১। তিনি পঞ্চাশ টাকা মূল্যের স্ট্যাম্পে সই দিলেন।
শুদ্ধ: তিনি পঞ্চাশ টাকা মূল্যের স্ট্যাম্পে সই দিলেন।
২। তিনি স্বস্ত্রীক ষ্টেশনে গিয়াছেন।
শুদ্ধ: তিনি সস্ত্রীক ষ্টেশনে গিয়াছেন।
৩। ষ্টেশন মাস্টার তখন ষ্টেশনে ছিলেন না।
শুদ্ধ: স্টেশন মাস্টার তখন স্টেশনে ছিলেন না।
৪। কস্ট অর্থ ক্লেস।
শুদ্ধ: কষ্ট অর্থ ক্লেশ।
৫। কাঠের তৈয়ারি আসন হলো কাস্টাশন।
শুদ্ধ: কাঠের তৈরি আসনই হলো কাষ্ঠাশন।

নিয়ম: ৮. কিছু কিছু শব্দের বহুবচন হলে বহুবচন বাচক চিহ্ন ব্যবহার করতে হবে। তবে শব্দের আগে ও পরে দুইবার চিহ্ন ব্যবহার করা যাবে না।
যেমন-‘সকল সভ্যগণ’ হবে না; হবে সকলসভ্য। তেমনি, ‘সকল বালিকারা’ নয়; ‘হবে সকল বালিকা’ ইত্যাদি।
১। যাবতীয় লোকসমূহ সভায় উপস্থিত ছিল।
শুদ্ধ: যাবতীয় লোক সভায় উপস্থিত ছিল।
২। কলেজের পূর্ণমিলনী উৎসবে বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ যোগদান করেন।
শুদ্ধ:কলেজের পূর্ণমিলনী উৎসবে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ যোগদান করেন।
৩। তার সকলেই এলো।
শুদ্ধ: তারা/সকলেই এলো।
৪। নতুন নতুন ছেলেগুলো স্কুলে এসে বড় উৎপাত শুরু করেছে।
নতুন ছেলেগুলো স্কুলে এসে উৎপাত শুরু করেছে।
৫। মাননীয় সভানেত্রী এবং উপস্থিত সকল শিক্ষকগণকে লক্ষ্য করে তিনি কথাগুলি বললেন।
মাননীয় সভানেত্রী এবং উপস্থিত সকল শিক্ষককে লক্ষ্য করে তিনি কথাগুলি বললেন।
৬। শোক সভায় বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী, বিজ্ঞানী, দার্শনিক প্রমুখগণ শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান করেন।
শোক সভায় বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী, বিজ্ঞানী, দার্শনিক প্রমুখ শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান করেন

বাক্য শুদ্ধিকরণ নিয়ম:৯: সন্ধিজনিত কিছু ক্রটিও লক্ষ্য করা যায়।
যেমন- অত্যাদিক (হবে অত্যধিক=অতি+অধিক), ইতিপূর্বে (হবে ইত:পূর্বে/ইতোপূর্বে, ইতি+পূর্বে), অদ্যবধি (হবে অদ্যাবধি=অদ্য+অবধি) ইত্যাদি।
১। তার দুরাবস্তা দেখে দু:খ হয়।
শুদ্ধ: তার দুরবস্তা দেখে দু:খ হয়।
২। ইতিমধ্যে যা ঘটছে তাতেই তার মনবিকার দেখা দিয়েছে।
শুদ্ধ: ইতিমধ্যে যা ঘটছে তাতেই তার মনোবিকার দেখা দিয়েছে।
৩। তিনি ততধিক বলবান নহে।
শুদ্ধ: তিনি ততোধিক বলবান নহে।
৪। জ্ঞানী মানুষ অবশ্যই যশলাভ করেন।
শুদ্ধ: জ্ঞানী মানুষ অবশ্যই যশোলাভ করেন।
৫। নিজের বিষয়ে তার কোনো মনযোগ নেই।
শুদ্ধ: নিজের বিষয়ে তার কোনো মনোযোগ নেই।

বাক্য শুদ্ধিকরণ নিয়ম: ১০: কিছু কিছু শব্দে বাহুল্য দোষ দেখা যায়।
যেমন–আকন্ঠ(কন্ঠ পর্যন্ত)। এখানে পর্যন্ত শব্দটি আকণ্ঠ শব্দের মধ্যে লুক্কায়িত; তাই পর্যন্ত শব্দটি বাহুল্য দোষে দুষ্ট। তদ্রƒপ, ‘অশ্রুজল’ নয় ‘অশ্রু’ ‘আয়ত্তাধীন’ নয় ‘অধীন’ বা আয়ত্তে; ‘ইদানীংকালে’ নয় ‘ইদানীং’ ইত্যাদি।
১। মালশুদ্ধ চোর গ্রেপ্তার হয়েছে।
শুদ্ধ: মালশুদ্ধ চোর গ্রেপ্তার হয়েছে।
২। তিনি অযতা অশ্রুজল বিসর্জন করিয়া সময় নষ্ট করেছেন।
শুদ্ধ: তিনি অযতা অশ্রু বিসর্জন করিয়া সময় নষ্ট করেছেন।
৩। বৃক্ষটি সমূলসহ উৎপাটিত হয়েছে।
শুদ্ধ: বৃক্ষটি সমূলে উৎপাটিত হয়েছে।
৪। শামসুর রাহমান বাংলাদেশের একজন অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
শুদ্ধ: শামসুর রাহমান বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ কবি।
৫। সে আকণ্ঠ পর্যন্ত পার করেছে।
শুদ্ধ: সে আকণ্ঠ পার করেছে।

বাক্য শুদ্ধিকরণ ,বাক্য ,শুদ্ধিকরণ ,বাক্য শুদ্ধিকরণ
বাক্য শুদ্ধিকরণ
বাক্য শুদ্ধিকরণ

বাক্য শুদ্ধিকরণ নিয়ম: ১১. শব্দে অনেক সময় প্রত্যয়জনিত ত্রুটি লক্ষ্য করা যায়।
যেমন- উৎকর্ষতা (হবে উৎকর্ষ), ধৈর্যতা (হবে ধৈর্য), ঐক্যতা (হবে একতা/ঐক্য), ইত্যাদি।
১। সর্ববিষয়ে বাহুল্যতা বর্জন করবে।
শুদ্ধ: সব বিষয়ে বাহুল্য বর্জন করবে।
২। আধুনিক চেতনাই এ কবির বৈশিষ্ট্য।
শুদ্ধ: আধুনিক চেতনাই এ কবির বৈশিষ্ট।
৩। ধৈর্যতা, সহিষ্ণুতা মহত্বের লক্ষণ।
শুদ্ধ: ধৈর্যতা ও সহিষ্ণুতা মহত্বের লক্ষণ।
৪। রচনাটির উৎকর্ষতা অনস্বীকার্য।
শুদ্ধ: রচনাটি উৎকর্ষতা অনস্বীকার্য।
৫। তাদের মধ্যে বেশ সখ্যতা দেখতে পাই।
শুদ্ধ: তাদের মধ্যে বেশ সখ্য দেখতে পাই।
৬। বিষয়সমূহে বাহুল্যতা বর্জন করবে।
শুদ্ধ: সব বিষয়ে বাহুল্যতা বর্জন করবে।

 নিয়ম ১২: কিছু শব্দ বাক্যে বিশেষণ হিসাবে ব্যবহৃত হয়। শব্দগুলোকে বিশেষ্য ভেবে বিশেষণ করতে গিয়ে সাধারণত ভুল হতে পারে। যেমনÑ ‘আবশ্যক’ (বিশেষণ) শব্দটিকে অনেকে বিশেষ্য ভেবে বিশেষণ রূপ দেয়ার জন্য আবশ্যকীয় করে থাকেন। তেমনি, পার্বতীয় হবে না পার্বত্য, নিশ্চয় হবে না, নিশ্চিত হবে। নিরোগী হবে না, হবে নিরোগ।
১। আমার কথাই প্রমাণ হলো।
শুদ্ধ: আমার কথাই প্রমাণীত হলো।
২। আমার টাকার আবশ্যক নেই।
শুদ্ধ: আমার টাকার আবশ্যকতা নেই।
৩। সবিনয় পূর্ব নিবেদন।
শুদ্ধ: সবিনয় নিবেদম।
৪। নিশ্চই সংবাদ পেয়িছি।
শুদ্ধ: নিশ্চত সংবাদ পেয়িছি।
৫। তার দারিদ্রতা অসহনীয়।
শুদ্ধ: তার দারিদ্র সহনীয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also
Close
Back to top button