fbpx
Trending

বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক পরিবেশ পরিবর্তন

আজকে আমি আলোচনা করবোঃ বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক পরিবেশ পরিবর্তন

আবহাওয়া হলো কোনো স্থানের স্বল্প সময়ের বায়ুমন্ডলীয় অবস্থা। 
সাধারণত এক দিনের এমন রেকর্ডকেই আবহাওয়া বলে। 
অর্থাৎ আবহাওয়া প্রত্যেক দিনের অবস্থাকে নির্দেশ করে থাকে।
আবার কখনও কখনও কোনো নির্দিষ্ট এলাকার স্বল্প সময়ের বায়ুম-লীয় অবস্থাকেও আবহাওয়া বলা হয়। 
আবহাওয়া নিয়ত পরিবর্তনশীল একটি চলক। 
আবার কোনো স্থানের দীর্ঘ সময়ের আবহাওয়ার উপাত্তের ভিত্তিতে তৈরি হয় সে স্থানের জলবায়ু।
সুতরাং বলা যায়, কোনো একটি নির্দিষ্ট স্থানের প্রতিদিনের বায়ুর তাপ, চাপ, আর্দ্রতা, মেঘাচ্ছন্নতা, 

বৃষ্টিপাত এবং বায়ু প্রবাহের দৈনন্দিন সামগ্রিক অবস্থাকে সেই দিনের আবহাওয়া বলে।
আর আবহাওয়া ও জলবায়ুু নিয়ে বিজ্ঞানের যে শাখা আলোচনা করে তাকে আবহাওয়া বিজ্ঞান বলা হয়।
জলবায়ু
কোনো স্থানের ৩০-৪০ বছরের গড় আবহাওয়ার অবস্থাকে জলবায়ু বলে।
অর্থাৎ আবহাওয়া প্রতিদিনে অবস্থা এবং জলবায়ু কয়েকটি বছরের আবহাওয়ার সমষ্টি।
জলবায়ু সাধারণত বৃহৎ এলাকার নির্ণীত হয়ে থাকে।
সুতরাং, জলবায়ু বলতে নির্দিষ্ট স্থানের দীর্ঘ সময়ের, সাধারণত ২০-৩০ বছরের আবহাওয়ার বিভিন্ন অবস্থার গড়পড়তা হিসাবকে বোঝানো হয়।

বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক পরিবেশ পরিবর্তন এর ফলে অনেক ক্ষয়ক্ষতির স্বীকার হচ্ছে বাংলাদেশ। 
জলবায়ু শ্রেণী বিভাগঃ
নির্দিষ্ট কয়েকটি উপাদান নিয়ে কোন একটি অঞ্চলেন জলবায়ু গঠিত হয়ে থাকে।
বিশ্বের কোন দেশের আবহাওয়া ও জলবায়ু একই রকমের নয়।
কিন্তু বিশ্বের এমন কিছু অঞ্চল রয়েছে যেখানের জলবায়ু কাছাকাছি বা প্রায় একই রকম।
আফ্রিকান অঞ্চল বেশি উষ্ণ আবার আমেরিকা মহাদেশ ও ইউরোপ মহাদেশের উত্তরাংশ বেশ শীতল অনুভূত হয়।
জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য কেবল প্রাকৃতিক কারণ দায়ী নয়, মানুষ্য সৃষ্ট কারণও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবক হতে পারে।
সার্বিক বিবেচনায় বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের জলবায়ু মোট ৪ ভাগে বিভক্ত। যথাঃ
১. নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু অঞ্চল;
২. উষ্ণ জলবায়ু অঞ্চল;
৩. মেরুদেশীয় জলবায়ু অঞ্চল;
৪. পার্বত্য জলবায়ু অঞ্চল
তবে উইকিপিডিয়ার তথ্যানুসারে আরও এক প্রকারের জলবায়ু রয়েছে। সেটি হল হিমম-লীয় জলবায়ু অঞ্চল।

আবহাওয়া ও জলবায়ুর প্রধান উপাদানঃ
আবহাওয়ার উপাদান বলতে সেসকল উপাদানকে বোঝায়, যাদের পরিবর্তনের ভিত্তিতে কোনো স্থানের বায়ুম-লীয় অবস্থার পরিবর্তন সূচিত হয়।
আবহাওয়ার এমন উপাদানগুলো হলো:
√ বায়ুপ্রবাহ 

√ তাপ

√ চাপ

√ বৃষ্টিপাত

√ আর্দ্রতা

আপনি পড়ছেন বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক পরিবেশ পরিবর্তন….

 

জলবায়ুর নিয়ামকঃ
পৃথিবীর সব অঞ্চলের জলবায়ু একই রকম নয়।
এর কোনো অঞ্চল উষ্ণ এবং কোনো অঞ্চল শীতল।
আবার কোনো স্থান বৃষ্টিবহুল এবং কোনো স্থান বৃষ্টিহীন।
কিছু ভৌগোলিক পার্থক্যেও কারণে স্থানভেদে জলবায়ুর এরকম পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। এই বিষয়গুলোকে জলবায়ুর নিয়ামক বলে।
জলবায়ুর নিয়ামকগুলো
মৃত্তিকার গঠন বা বুনট
বায়ুপ্রবাহ
ভূমির ঢাল
সমুদ্র থেকে দূরত্ব
সমুদ্রস্রোত
বনভূমির অবস্থান
উচ্চতা
পর্বতের অবস্থান
অক্ষাংশ

অক্ষাংশ 
নিরক্ষরেখার উপর সূর্য সারাবছর লম্ব বা তির্যকভাবে কিরণ দেয়
নিরক্ষরেখা থেকে যত উত্তর কিংবা দক্ষিণ দিকে যাওয়া যায় সূর্যকিরণ তত লম্ব বা তির্যকভাবে পড়তে থাকে
নিরক্ষরেখা থেকে উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর দিকে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমে

পর্বতের অবস্থান 
 উচ্চ পার্বত্যময় এলাকা বায়ু প্রবাহের পথে বাধা হলে এর প্রভাব জলবায়ুর উপর পরিলক্ষিত হয়
মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের উপরে আড়াআড়িভাবে অবস্থিত হিমালয় পর্বতে বাঁধা পেয়ে বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালে  প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়
 অপরদিকে শীতকালে মধ্য এশিয়ার শীতল বায়ু হিমালয় অতিক্রম করতে পারে না। তাই ভারতীয় উপমহাদেশের জলবায়ু ইউরোপের মত তত শীতল হয়না
উচ্চতা 
সমুদ্রতল থেকে যতই উপরের দিকে উঠা যায় উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে বায়ুম-লীয় তাপমাত্রা ততই হ্রাস পায়
প্রতি ১০০০ মিটার উচ্চতায় প্রায় ৬০ সেলসিয়াস তাপমাত্রা হ্রাস পায়
উচ্চতার পার্থক্যের কারণে দুই জায়গায় একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া শর্তেও একটি অপরটির চেয়ে ভিন্ন জলবায়ুর হয়ে থাকে। যেমন- দিনাজপুর ও শিলং একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া শর্তেও শুধু উচ্চতার তারতম্যের কারণে দিনাজপুরের চেয়ে শিলং এ তাপমাত্র কম হয়
একই অক্ষাংশে অবস্থিত ভিন্ন উচ্চতার জায়গায় জলবায়ু ভিন্ন হয়।
বনভূমির অবস্থান
বনভূমি ঝড়তুফান সাইক্লোনের গতিপথে বাধা দিয়ে এর শক্তি কমিয়ে দেয়
গাছপালার প্রস্বেদন ও বাষ্পীয়ভবনের সাহায্যে বায়ু জলীয়বাষ্পপূর্ণ এবং ঘনীভূত হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায়
বনভূমিতে সূর্যালোক মাটিতে পৌঁছাতে পারে না  বলে বনভূমি এলাকার বায়ু তুলনামূলকভাবে শীতল হয়
বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক পরিবেশ পরিবর্তন এর জন্য বিস্তারিত জানতে চান তবে পোষ্টটি আপনার জন্য। 


সমুদ্রস্রোত 
 শীতল বা উষ্ণ সমুদ্রস্রোতের প্রভাবে উপকূল সংলগ্ন এলাকার বায়ু ঠান্ডা বা উষ্ণ হয়। 
উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের প্রভাবে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলবর্তী এলাকার উষ্ণতা বৃদ্ধি পায়। 
 শীতল ল্যাব্রাডর স্রোত উত্তর আমেরিকার পূর্ব উপকূলকে শীতল রাখে। 

সমুদ্র থেকে দূরত্ব 
 জলভাগের অবস্থান কোন এলাকায় জলবায়ুকে মৃদুভাবাপন্ন করে। যেমন-কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, 
পটুয়াখালী সমুদ্র উপকূলে হওয়ার কারণে এখানকার জলবায়ু রাজশাহীর তুলনায় বেশ মৃদুভাবাপন্ন। 
 সমুদ্রতীরের কাছাকাছি এলাকায় শীত গ্রীষ্মে তেমন তারতম্য পরিলক্ষিত হয় না। 
এ ধরণের স্থলভাগ জলভাগ অপেক্ষা যেমন দ্রুত উষ্ণ হয় তেমনি দ্রুত ঠা-া হয়। 
এজন্য গ্রীষ্মকালে মহাদেশের অভ্যন্তরভাগে এলাকা অত্যন্ত উত্তপ্ত থাকে। 
আবার, শীতকালে প্রচন্ড শীত অনুভূত হয়। এজন্য এ ধরণের জলাবায়ুকে মহাদেশীয় বা চরমভাবাপন্ন জলবায়ু বলে।
ভূমির ঢাল 
 সূর্যকিরণ উচ্চভূমির ঢাল বরাবর লম্বভাবে পতিত হয় বলে সেখানকার বায়ু এবং ভূমি বেশি উত্তপ্ত হয়। 
কিন্তু ঢালের বিপরীত দিকে সূর্যকিরণ কম পড়ে বলে সেখানকার বায়ু শীতল হয়।

বায়ুপ্রবাহ 
 জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু কোন এলাকার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলে সে এলাকায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়
 শীতকালে বাংলাদেশে উপর দিয়ে শুষ্ক মহাদেশীয়  বায়ু প্রবাহের কারণে বৃষ্টিপাত হয় না

মৃত্তিকার গঠন বা বুনট 
 প্রস্তুর বা বালুকাময় মৃত্তিকার তাপ সংরক্ষণ ক্ষমতা কম। এজন্য তা দ্রুত উত্তপ্ত এবং দ্রুত শীতল হয়। যেমন: মরুভূমিতে দিনে প্রচন্ড গরম এবং রাতে প্রচণ্ড- ঠান্ড হয়ে থাকে।

এক নজরে দেখে নিন…
ষড়ঋতুর দেশ হিসেবে পরিচিত হলেও বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রার ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশে বছরে সুস্পষ্ট তিনটি ঋতুর উপস্থিতি চিহ্নিত করা যায়।
শুষ্ক শীতকাল নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়;
মার্চ থেকে মে পর্যন্ত স্থায়ী প্রাক-মৌসুমি বায়ুপুর্ব গ্রীষ্মকাল;
জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বিস্তৃত বর্ষাকাল।
এ ছাড়াও মার্চ মাসটিকে বসন্ত ঋতু এবং মধ্য অক্টোবর থেকে মধ্য নভেম্বর পর্যন্ত সময়কে হেমন্ত ঋতু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে।
ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি থেকে দেশের পশ্চিম-মধ্যভাগে প্রথমে শুষ্ক ঋতুর আবির্ভাব ঘটে এবং প্রায় চার মাসকাল এখানে এ ঋতু বিরাজমান থাকে।

 

বৈশ্বিক পরিবেশ পরিবর্তন

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also
Close
Back to top button