fbpx

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

সুশাসনের সংজ্ঞা

সুশাসন হচ্ছে এমন একটি রাষ্ট্র ব্যবস্থার প্রতিফলন যেখানে শাসক ও শাসিতের মধ্যে সুসস্পর্ক বজায় থাকবে, সর্বোচ্চ স্বাধীন বিচার বিভাগ থাকবে, আইনের শাসন থাকবে, নীতির গণতন্ত্রায়ণ থাকবে, জনগণের অধিকারের নিশ্চয়তা থাকবে, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সকলের অংশগ্রহণমূলক ব্যবস্থা থাকবে, মতামত ও পছন্দের স্বাধীনতা থাকবে এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকবে।

The Social Encyclopaedia-তে সুশাসন সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘এটি সরকার পরিচালনা অপেক্ষা একটি বিস্তৃত ধারণা, যা একটি নির্দিষ্ট ভ‚খÐে সামাজিক নিয়মশৃঙ্খলা রক্ষায় এবং নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহারের প্রশ্নে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের ভ‚মিকার সাথে বিশেষভাবে সম্পর্কিত।’

   Good Governance শব্দটি Goodএবং Governance এ দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত যার অর্থ নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।

   সুশাসন ধারণার উদ্ভাবক – বিশ্বব্যাংক।

   সুশাসন প্রত্যয়টি ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্বব্যাংক কর্তৃক উদ্ভাবিত আধুনিক শাসন ব্যবস্থার সংযোজিত রূপ। 

   সুশাসনের ধারণাটি মূলত – গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার সাথে সম্পর্কিত। 

   অংশগ্রহণমূলক শাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয় – সুশাসন। 

   সুশাসন হলো জনপ্রশাসনের একটিÑ নব্য সংস্কৃতি।

   সুশাসনের ভিত্তিকে দৃঢ় করেÑ সৎ, যোগ্য ও দক্ষ নেতা। 

   সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলোÑ মৌলিক অধিকারের উন্নয়ন। 

   সুশাসনের পূর্বশর্ত হলো জবাবদিহিতা। 

   রাষ্ট্র এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্কের নির্দেশকÑ সুশাসন

   সুশাসনে অংশগ্রহণ করতে হলে নাগরিকদের সচেতন হতে হবে কর্তব্য, অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে।

   জনপ্রশাসনের সমস্যা হচ্ছেÑ কেন্দ্রীভ‚ত ক্ষমতা চর্চা। 

   ‘রাষ্ট্রের সকল ক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য সুশাসন আবশ্যক মিশেল ক্যামডোসাস।

   রাষ্ট্রে সরকার তার নীতি বাস্তবায়ন করে আমলাতন্ত্রের মাধ্যমে, তাই রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে একটি দক্ষ ও শক্তিশালী আমলাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা আবশ্যক। 

   সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনÑ গণতান্ত্রিক চর্চা, মূল্যবোধের বিকাশ, উপযুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা, বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, অর্থনৈতিক ভারসাম্য, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। 

   ড. আতাউর রহমান-এর মতে,, “Good Governance implies the ability of political system, it’s effectiveness, performance and Quality.”

   ম্যাককরনীর মতে, ‘‘সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়।’’

সুশাসনের বৈশিষ্ট্য

সুশাসনের নিয়ামকগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে শাসন ও সরকার ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য কিছু বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়। সুশাসনের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো –

ক) অংশগ্রহণমূলক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা

খ) জবাবদিহিমূলক বিকেন্দ্রীকৃত সরকার ব্যবস্থা 

গ) কৃষি ও শিল্প বান্ধব নীতিমালা ও দক্ষ জনশক্তি গঠন ব্যবস্থা 

ঘ) উন্মুক্ত বৈদেশিক সম্পর্ক নির্মাণ। 

ঙ) স্বাস্থ্য সমৃদ্ধ জাতি। 

সুশাসনের উপাদান 

সুশাসনের ধারণাটি বিশ্বব্যাংকের এক প্রকাশনীর মাধ্যমে পরিচিতি লাভ করে ১৯৮৯ সালে। 

সুশাসন সমাজে সমতা আনয়ন করে, জনমত প্রকাশের সুযোগ করে দেয়, দেশ ও জাতির প্রতি নাগরিকের শ্রদ্ধাবোধ ও দায়িত্বশীলতার সৃষ্টি করে। 

   টঘউচ সুশাসন নিশ্চিত করতে যে ৬টি উপাদান উল্লেখ করেছে তা হলো

১. সংসদীয় পদ্ধতির উন্নয়ন।

২. নির্বাচন ব্যবস্থা ও পদ্ধতির সাথে সহযোগিতা করা। 

৩. ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার নিশ্চিতকরণ। 

৪. তথ্য প্রবাহে প্রবেশাধিকারের উন্নয়ন। 

৫. ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা সমর্থন করা। 

৬. লোক প্রশাসন ও সরকারি সেবা খাতসমূহের সংস্কার সাধন করা। 

   সুশাসনের অন্যতম অন্তরায় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অভাব। 

   সুশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত – কার্যকরী গণতন্ত্র

   সামাজিক বৈষম্য এবং ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি করে – দুনীতি।

   জনগণের অধিকার রক্ষার রক্ষাকবচ – আইনের শাসন। 

   সুশাসনের মূল রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্য হলো অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক ব্যবস্থা।

   আইনের শাসন না থাকলে বাধাগ্রস্ত হয় – সুশাসন

   জাতিসংঘ সুশাসনের ৮টি উপাদান সম্পর্কে আলোচনা করেছে। নিচের ছক আকারে তা দেখানো হলো

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also
Close
Back to top button