fbpx
ইতিহাসবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিশিক্ষা

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ইতিহাস

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি হলো বর্তমানের আধুনিক পৃথিবীর সম্পদ। শিল্প বিপ্লবের পর এটি পৃথিবীর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা।এটি আমাদের নিত্য জীবনের সঙ্গী। বর্তমান সময়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ছাড়া আমরা অচল । মানুষের জীবনযাত্রা এখন সার্বিকভাবে প্রযুক্তি নির্ভর। বর্তমানে প্রযুক্তি আমাদের জীবনের জন্য জাদুর কাঠি হয়ে উঠেছে। সকালে ঘুম থেকে উঠা থেকে শুরু করে রাতে ঘুমানোর আগ পর্যন্ত আমরা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উপর নির্ভর। ছোট শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ বয়স্ক মানুষ পর্যন্ত সকলেই কমবেশি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার জানে ‌। প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে ক্রমাগত সহজ করে তুলেছে ।আগে মানুষ যাতায়াত করত পায়ে হেঁটে সাইকেলে গাড়ি আবিষ্কারের পর থেকে আমাদের যেকোনো জায়গায় দ্রুত গতিতে যাওয়া সম্ভব হয়েছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আধুনিক বিজ্ঞানের একটি শাখা। বর্তমান বিশ্বের সামগ্রিক উন্নয়ন ধারার মূল চাবিকাঠি এটি। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিকে ইংরেজিতে বলা হয় Information and Communication Technology । একে সংক্ষিপ্ত রূপে ICT বলে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির জনক ক্লাউডি এলউড শ্যানন ।একজন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারকারী খুব সহজে যেকোনো তথ্য গ্ৰহণ , সংরক্ষণ, সঞ্চালন করতে পারে। ১৯৮০ সালে প্রযুক্তিতে আইসিটি শব্দটির ব্যবহার শুরু করেন একাডেমিক গবেষকরা। কিন্তু তখন শব্দটি তেমন জনপ্রিয়তা লাভ করেনি ।১৯৯৭ সালে স্টিনভেনসন যুক্তরাজ্যের সরকারকে দেওয়া এক প্রতিবেদনে এ সম্পর্কের ব্যবহার করার পর এই শব্দটি জনপ্রিয়তা লাভ করে। ২০০০ সালে যুক্তরাজ্যের জাতীয় পাঠ্যপুস্তক এটি সংযোজন করা হয় । মানুষ নিজের কাজকে সহজ করার জন্য প্রতিনিয়ত এই প্রযুক্তিকে উন্নত থেকে উন্নততর করে চলছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উপকরণ হচ্ছে কম্পিউটার, নেটওয়ার্ক, সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার প্রভৃতি । এদের মধ্যে প্রধান হলো কম্পিউটার। গ্রিক শব্দ কম্পিউট থেকে কম্পিউটার শব্দটি এসেছে । আভিধানিক অর্থে কম্পিউটারকে এক ধরনের গণনা যন্ত্র বলা হয়। কিন্তু কম্পিউটার শুধু গণনাকারী নয় আরও বিভিন্ন ধরনের কাজ করতে পারে। ব্রিটিশ গণিতবিদ চার্লস ব্যাবেজকে কম্পিউটারের জনক বলা হয়। আধুনিক কম্পিউটারের সূত্রপাত ঘটে ১৮৩৩ সালে চার্লস ব্যাবেজ এর এনালিটিক্যাল ইঞ্জিন নামক গণনা যন্ত্র তৈরির পরিকল্পনার মাধ্যমে। ১৯৬৪ সালে ইনিয়াক নামক প্রথম কম্পিউটার আবিষ্কৃত হয়। কম্পিউটার নিজের মধ্যে বিপুল পরিমাণের তথ্য সংগ্রহ করে রাখতে পারে। প্রাচীন যুগের কম্পিউটার গুলো আকারে অনেক বড় হতো। সেগুলো আকার ছিল অনেক বিশাল পুরো একটা রুম জুড়ে শুধু মাত্র একটি কম্পিউটার রাখা যেত কিন্তু প্রযুক্তির উন্নয়নের সাথে সাথে কম্পিউটারের আকার ছোট হয়ে যায় যার ফলে এটা সহজেই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তর করার মত সুবিধা পেয়ে থাকি। ইন্টারনেট ও প্রযুক্তির একটি অসাধারণ। ইন্টারনেটের জনক বলা হয় ভিনটন জি কার্ফ কে। ইন্টারনেট একটি ইংরেজী শব্দ। এটির পূর্ণরূপ ইন্টারকানেকটেড বা ইন্টার্নেশনাল নেটওয়ার্ক । এই ব্যবস্থাটি বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত। ইন্টারনেটের ইতিহাস এর যাত্রা শুরু হয়১৯৬৯ সালে ।প্রথম ইন্টারনেটের ব্যবহারের সূচনা করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনীর। বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ২৫ কোটি। ইন্টারনেট আমাদেরকে সারা বিশ্বের সাথে সংযুক্ত করে রেখেছে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে আমরা বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের যেকোন বিষয় সম্পর্কে জানতে পারি। ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের খেলা, গান শোনা, চিকিৎসা লাভ, সিনেমা দেখা, রান্না শেখা, ফ্যাশন ইত্যাদি সম্পর্কে জানতে পারি। মানুষের জন্য নতুন কর্মস্থল তৈরিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ভূমিকা অপরিসীম। এটি মানুষকে ঘরে বসে আয় করার সুযোগ করে দিয়েছে। অনেকেই বেকারত্বের সমস্যায় ভুগছে এই সমস্যা দূর করার জন্য ঘরে বসেই অনেক ধরনের টাকা উপার্জন করার মাধ্যম রয়েছে সেগুলোর মাধ্যমে মানুষ এখন নিজের জীবনে প্রতিষ্ঠিত। অনেকেই আছে বই পোকা। বই পড়তে খুব ভালোবাসে। কিন্তু যাতায়াতের সময় বা দূরে কোথাও বেড়াতে গেলে বেশি বই সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না। আর বইয়ের ভারও অনেক হয় এসব সমস্যা দূর করার জন্য ই-বুক রয়েছে। ই-বুক এর পূর্ণরূপ ইলেকট্রনিক বুক। ই-বুক এর জনক মাইকেল স্টার্ন হার্ট এই বুকে আমরা নিজের ইচ্ছা মতন বই পড়তে পারব এটা মোবাইল, ল্যাপটপ বা যেকোনো ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসে ই-বুক রাখা সম্ভব । ই-লার্নিং বা ইলেকট্রনিক লার্নিং এটা বর্তমানে আমাদের সবার সাথে পরিচিত। বিশ্বজুড়ে মহামারি করোনার প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ার পর সকল স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কিন্তু এই লার্নিং তাদেরকে শিক্ষা গ্রহণে সহায়তা করে দিয়েছে এর মাধ্যমে আমরা যেকোন শিক্ষকের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি। অনেক মানুষই আছে যারা অফিসের একঘেয়েমি কাছ থেকে খুবই বিরক্ত আবার অনেক সময় অফিসে যাওয়ার মুহূর্তে যে কোন ধরনের সমস্যা হতে পারে তখন অফিস থেকে ছুটি নিতে হয় ।কিন্তু যদি এমন হতো যে সশরীরে অফিসে উপস্থিত না হয় কাগজ-কলমে ব্যবহার না করে অফিসের কাজগুলো করে ফেলা যাবে তাহলে কেমন হতো? অবাক হওয়ার কিছুই নেই আমি ভার্চুয়াল অফিস এর কথা বলছি। এখানে কোন মানুষের দরকার হয় না কাজের সময় নির্দিষ্ট নয় । যেকোনো সময় যেকোনো জায়গায় বসে এর কাজ করা যেতে পারে। অনেক অঞ্চলে চিকিৎসা ব্যবস্থা ভালো না তার জন্য আছে টেলিমেডিসিন। টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে আমরা দেশের যেকোনো প্রান্তে বসে যে কোন রোগের সঠিক চিকিৎসা পেতে পারি।‌ প্রযুক্তির মাধ্যমে ঘরে বসে আমরা ব্যাংকিং সেবা পেয়ে থাকি। তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থার মধ্যে অনেক পরিবর্তন এনেছে। আমরা এখন এক দেশ থেকে অন্য দেশের মানুষের সাথে ভিডিও কলে ভয়েস কল কথা বলতে পারি ।ইমেইলের মাধ্যমে আমরা যোগাযোগ করতে পারি। প্রযুক্তি আমাদের জীবনে আরো অনেক ধরনের সুফল বয়ে এনেছে। সুফল বয়ে এনেছে মানে এর কোন সুফল নেই এমন কিন্তু নয়। সব কিছুরই ভালো দিক যেমন আছে ঠিক তেমনই আছে তার কিছু খারাপ দিক। তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে মানুষের অনেক ধরনের ক্ষতি হচ্ছে। অনেক অসাধু মানুষ আছে যারা প্রযুক্তির অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষের ক্ষতি করছে। সন্ত্রাসবাদের মতন জঘন্য অপরাধ এর মাধ্যমে সংঘটিত করছে। তাই আমাদের সবসময় প্রযুক্তি ব্যবহারে সচেতন থাকতে হবে ।কখনও এর অপব্যবহার করে অন্যের ক্ষতি করা যাবে না। সব সময় মানুষের কল্যাণ করার জন্য এর ব্যবহার করতে হবে।

আরো দেখুন

সমবিষয়ক আর্টিকেল

Leave a Reply

Your email address will not be published.