fbpx

ডিপ্রেশন

বর্তমানে তরুণদের প্রজন্মদের মধ্যে বহুল পরিচিত একটি শব্দ হচ্ছে ডিপ্রেশন। ডিপ্রেশন হলো মেজাজ ডিসঅর্ডার। এটি নিজে থেকে সমাধান হতে পারে। তবে ডিপ্রেশন একটি মারাত্মক সমস্যা। ডিপ্রেশন ব্যক্তির দুঃখ প্রতাগণ হতাশার অনুভূতি। এই অনুভূতিগুলো ব্যক্তির স্বাভাবিক জীবনে প্রভাব ফেলে এবং দীর্ঘস্থায়ীভাবে ব্যক্তিকে সুস্থ করে তোলে।

ডিপ্রেশনে ভোগা ব্যক্তিরা তাদের সমস্যাগুলো নিয়ে কারো সাথে কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না। তাদের সমস্যা নিয়ে কথা বলতে তারা পছন্দ করে না। কারো সাথে শেয়ার করলে এর স্পষ্টতা বেড়ে যাবে। তারা তাদের সমস্যার কথা লুকিয়ে রাখে। তারা ভালো খারাপের আর ধূসর জালে আটকা পড়ে যায়। তারা কখনো সত্যি কথা বলে না যে তারা কেমন আছে? তারা কখনো স্পষ্টভাবে বলে না তারা ভালো আছে না খারাপ। তারা কেমন আছো প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে।

তারা তাদের অনুভূতি গুলো দমিয়ে রাখার জন্য নিজেকে ব্যস্ত রাখার পথ বেছে নেয়। যার ফলে তারা নিজেকে সময় দিতে পারেনা। সামের ফলে তারা ডুবে যায় এক ধরনের স্বেচ্ছা ক্লান্তিতে। এই সকল কিছু মিলিয়ে মূলত ডিপ্রেশন।

স্বাস্থ্য সংস্থার মতে পৃথিবী জুড়ে ৩৪ কোটি মানুষ ডিপ্রেশনে ভুগছে। এর মধ্যে বেশিরভাগই ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সের নারীদের মধ্যে দেখা যায়। মিশনে ভোগা মানুষের হার ৬.৭ শতাংশ।

গবেষণায় দেখা গিয়েছে, পুরুষের তুলনায় নারীরা বেশি ডিপ্রেশনে ভুগে। এটি নারীদের হরমোনের মধ্যে দিয়ে চলেছে বলে ধারণা করা হয়। তবে প্রবীণরা এই ডিপ্রেশনের ঝুঁকিতে বেশি থাকে। সারাদিন একা থাকা, সামাজিক সহায়তা, প্রিয়জনের কাছে গুরুত্ব না পাওয়ায় এগুলোর অভাবে আরো বেশি ডিপ্রেশনে থাকার সম্ভাবনা বাড়ে। কিছু কিছু লোকেরা নিজেদের ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে ডিপ্রেশনে থাকে। পদার্থের অপব্যবহারের ফলেও ডিপ্রেশনের সৃষ্টি হতে পারে। ইতিহাসে ৩০ শতাংশ মানুষেরই পদার্থের অপব্যবহারের কারণে অল্প বা গুরুতর আকারে ক্লিনিক্যাল ডিপ্রেশনে থাকে। এছাড়া বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী রোগ যেমন: ডায়াবেটিস, থাইরয়েড, কিডনি রোগ ইত্যাদি কারণেও মানুষ ডিপ্রেশনে থাকে। তাছাড়া হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে ও ডিপ্রেশনে ভুগতে হতে পারে। কিছু কিছু ওষুধ আছে যেগুলোর প্রভাব হিসেবে ডিপ্রেশনের ঝুঁকি বেড়ে যায়। গর্ভবতী মহিলাদের মধ্যেও ডিপ্রেশন দেখা দিতে পারে। এটি সন্তান প্রসবের পর প্রায় এক বছর পর্যন্ত বিদ্যমান থাকে। নারীরা মাসিকের আগে ও পরে ডিপ্রেশনের থাকার সম্ভাবনা থাকে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র মেয়েদের ক্ষেত্রে। এছাড়া কর্মক্ষেত্রের চাপে, বিবাহে সমস্যা, দারিদ্রতা ইত্যাদি কারণেও মানুষ ডিপ্রেশনে ভুগে থাকে।

ডিপ্রেশনে থাকা মানুষগুলো অল্পতেই রেগে যায়। তাদের কোন কথাই ভালো লাগেনা। তারা তাদের অনুভূতি গুলো চেপে রাখে এবং এর ফলাফল স্বরূপ তাদের রাগ প্রকাশ হয়ে যায়। রাগের বহিঃপ্রকাশ টা বেশ প্রবল হয়। কাউকে আঘাত করা, জিনিসপত্র ভাঙচুর করা এমনকি এরা রাগের কারণে নিজেদের আঘাত করতেও দ্বিধাবোধ করে না। বিশেষত ডিপ্রেশনে ভুগা পুরুষদের মধ্যে এসব কাজের প্রবণতা বেশি থাকে।

ডিপ্রেশনের ফলে মানুষ তার পছন্দের কাজগুলো করতে অপছন্দ করে। তারা ধীরে ধীরে কোলাহল থেকে বেরিয়ে এসে একা একা বেঁচে থাকতে চায়। তারা কারো সঙ্গ দিতে চায় না এবং কাউকে সঙ্গী হিসেবে নিতেও চায় না। এরা একান্তই নিজের মত বাঁচতে চায়। তারা কারও মতামতকে প্রাধান্য দেয় না। তারা এই সামাজিকতার আড়ালে চলে যায়। তাদের এই জগত ক্রমশ ছোট হতে থাকে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button