fbpx

এলিয়েন

এলিয়েন বলতে মূলত আমরা ভিনগ্রহের প্রাণীকে বুঝি। যাদের সৃষ্টি এই পৃথিবীতে হয়নি। যারা মহাবিশ্বের অন্য কোথাও রয়েছে। পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্ব আছে কিনা তা নিয়ে রয়েছে অনেক তর্ক বিতর্ক। তবে বর্তমানে এলিয়েনের অস্তিত্ব কেবলই কাল্পনিক। এখন পর্যন্ত পৃথিবীর বাহিরে কোন ক্ষুদ্র জীবনের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। কিছু কিছু বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন যে এলিয়েনদের অস্তিত্ব রয়েছে। এই কাল্পনিক প্রাণীটিকে অন্য বিশ্বের বুদ্ধিমান প্রাণীও বলা হয়ে থাকে।

বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবীর বাহিরে কিছু কিছু স্থান আছে যেখানে প্রাণের অস্তিত্ব থাকতে পারে। শুক্র মঙ্গল বৃহস্পতি এবং শনি গ্রহের উপগ্রহ গুলো, যেমন:- বৃহস্পতির ইউরোপা, শনির ইনসেলাডাস এবং টাইটান সহ আরো অনেক গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব পাওয়া যেতে পারে বলে ধারণা বিজ্ঞানীদের।

ভিন গ্রহে প্রাণের অস্তিত্বের ধারণাটির নতুন নয়। অনেক দার্শনিক পৃথিবীর মতো অন্য গ্রহে প্রাণ থাকতে পারে বলে ধারণা দিয়েছিল। আমাদের এই মহাবিশ্বের রয়েছে প্রায় ২০ থেকে ৪০ হাজার কোটি নক্ষত্র, তার মধ্যে একটি হচ্ছে আমাদের সূর্য। এই মহাবিশ্বের অসংখ্য নক্ষত্রের মধ্যে কোন একটি আমাদের সৌরজগতের মতো থাকতেই পারে যেখানে প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে। মহাবিশ্ব অনেক বড় হওয়ার কারণে পৃথিবীর বাইরে প্রাণের সম্ভাবনা থাকাটাও বেশি। অনেক সময় পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্ব প্রমাণের জন্য বিভিন্ন স্থানে দেখা যাওয়া অশান্ত উড়ন্ত বস্তুর কথা বলা হয়। উড়ন্ত বস্তু বলতে বোঝায় ইউএফও (UFO= Unidentified Flying Object)। বেশিরভাগ সময় ইউএফও মানব সৃষ্টি হয়ে থাকে। পৃথিবীর অনেকেই দাবি করেন ভিনগ্রহের প্রাণীরা পৃথিবীতে প্রায় আসা-যাওয়া করেন এবং তাদের দেখা পাওয়া গিয়েছে। তাই পৃথিবীর আদিবাসীরাও যে ভিনগ্রহের প্রাণী দেখেছেন এটা অসম্ভব কিছু নয়। ভিনগ্রহের প্রাণীর সন্ধানে থাকা সবচেয়ে বিখ্যাত ব্যক্তি ছিলেন সুইজারল্যান্ডের এরিক আন্তল পল ভন ভেনিকেন। তিনি পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে ও প্রাচীন পান্ডুলিপি এবং দেয়ালচিত্রে খুঁজে এলিয়েন পৃথিবীতে আসার নানান প্রমাণ দিয়ে গিয়েছে। কিন্তু তার এই দৃষ্টিকোণের ব্যাপারে অনেক মতবিরোধ রয়েছে।

বর্তমানে ভিনগ্রহের প্রাণীর সন্ধানে পৃথিবী থেকে মহাকাশ অভিযান চালু হয়েছে। তার মধ্যে একটি হচ্ছে বহির্জাগতিক বুদ্ধিমত্তা অনুসন্ধান বা সেটি (SETI :- Search for Extraterrestrial Intelligence)। ‘সেটি’ বেতার তরঙ্গের মাধ্যমে ভিনগ্রহের প্রাণীর অনুসন্ধান করে পৃথিবী থেকে।

সৌরজগতে মঙ্গল গ্রহের অবস্থান পৃথিবীর পরেই, যা সৌরজগতে বসবাসযোগ্য অঞ্চল গুলোর অন্তর্ভুক্ত। কারণে মঙ্গল গ্রহে প্রাণের বিকাশ থাকতে পারে বলে ধারণা করেছেন অনেক বিজ্ঞানীরা। অনিক মহাকাশ সংস্থা এই বিষয় দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা ও করছেন। অনেক বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন যে, মঙ্গলের ভূপৃষ্ঠে পানি থাকতে পারে। এছাড়া মঙ্গলের আবহাওয়ায় মিথেন ও পাওয়া গিয়েছে। ২০০৮ সালের জুলাই মাসে এক গবেষণায় প্রমাণ হয়েছে যে মঙ্গলের মাটিতে পানির অস্তিত্ব রয়েছে। এছাড়া সৌরজগতের শনি গ্রহের সবচেয়ে বড় উপগ্রহ টাইটানে দীর্ঘদিন ধরে প্রাণের সন্ধান পাওয়ার আসে পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে বিজ্ঞানীরা। নাসার বিজ্ঞানীরা জানান যে শনির উপগ্রহ গুলির মধ্যে একমাত্র তাঁরই টাইটানেই প্রাণীর বসবাসের উপযুক্ত পরিবেশ রয়েছে এবং সেখানে প্রাণের উৎপত্তি হয়েছে প্রাণীর শ্বাস নিতে পারছে। আরো জানা যায় যে, এই প্রাণীরা ভূপৃষ্ঠের জ্বালানি খেয়ে বেঁচে আছে। আরও একটি প্রতিবেদনে জানা যায় টাইটানের আবহাওয়া মন্ডলে হাইড্রোজেন গ্যাস প্রবাহিত হচ্ছে এবং ভূপৃষ্ঠের কাছে এসে হাইড্রোজেন গ্যাস গুলি হারিয়ে যাচ্ছে। এ থেকে এটি প্রমাণিত হয় যে ওই প্রাণীরা শ্বাস নেওয়ার জন্য হাইড্রোজেন গ্যাস গ্রহণ করছে।

ভিনগ্রহের প্রাণী আসলে আছে কিনা তা নিয়ে ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া অধ্যাপক ফ্রাস্ক ড্রেক ১৯৬০ সালে একটি সমীকরণ অবতরণ করেন। পরবর্তীকালে এটি ড্রেকের সূত্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
সমীকরণটি হলো,
N=R×P×E×L×I×T
এই সূত্রে,
N= বর্তমান সময়ে যে কয়টি বুদ্ধিমান প্রাণী তাদের জগৎ থেকে মানুষের জগতের যোগাযোগ করার চেষ্টা করছে তাদের সংখ্যা।
R= নক্ষত্রমন্ডল এ মোট নক্ষত্রের সংখ্যা।
P= একটি নক্ষত্রকে ঘিরে গ্রহ পাওয়ার সম্ভাবনা।
E= প্রাণের বিকাশ উপযোগী হওয়া গ্রহের সংখ্যা
L= প্রাণের বিকাশ উপযোগী গ্রহ থাকলে সত্যি সত্যি প্রাণের বিকাশ হওয়ার সম্ভাবনা।
I= সত্যি প্রাণের বিকাশ ঘটলে সেগুলো অন্য জগতের প্রাণীর সাথে যোগাযোগের মধ্যবর্তী মাত্র অর্জনের সম্ভাবনা।
T= যে সময় পর্যন্ত এই বুদ্ধিমান প্রাণীটি তার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারে।

ড্রেকের এই সমীকরণটি দেখে ইতালিক বিজ্ঞানী এনরিকো ফার্মি বলেন,
• যদি এই মহাবিশ্বে কোন বুদ্ধিমান প্রাণী থাকতে এত দিনে তাদের দেখা পাওয়ার কথা ছিল।
•‌ পৃথিবীতে যদি তাদের দেখা না পাওয়া যায় তাহলে বুঝতে হবে পৃথিবীতে আসার জন্য তাদের পর্যাপ্ত শক্তি,সামর্থ্য ও প্রযুক্তি নেই।
• তাও যদি না হয় তাহলে ওই বুদ্ধিমান প্রাণীর অস্তিত্ব খুবই ক্ষণস্থায়ী, তাদের জন্ম হয় এবং কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা নিজেদেরকে ধ্বংস করে ফেলে।
তার এই কথাগুলো ফার্মির কূটাভাস নামে পরিচিত।

ভিনগ্রহের প্রাণী সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা কোনো সিদ্ধান্ত না জানালেও পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ বিশ্বাস করে,ভিনগ্রহের প্রাণীর অস্তিত্ব রয়েছে। অনেকেই দাবি করেন, এলিয়েনরা বহু যুগ ধরে পৃথিবীতে প্রায় নিয়মিত যাওয়া আসা করে। এক জরিপে দেখা যায়, ভারত ও চীনের বেশিরভাগ মানুষ বিশ্বাস করে “ভিনগ্রহের প্রাণীরা মানুষের মাঝে মানুষের ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়ায়”। যারা ভিনগ্রহের প্রাণী দেখেছেন বলে দাবি করে তাদের অনেকেই বলে ভিনগ্রহের প্রাণীরা কোন পোশাক পরিধান করে না।

এখনো মানুষ বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা দ্বারা ভিন্ন গ্রহের প্রাণী কোন অস্তিত্ব পায়নি তবে এই প্রাণে যে একেবারে নেই এটা ভাবাটা ও সঠিক হবে না।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button