fbpx

ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠার ইতিহাস,বর্তমান অবস্থা; মঙ্গল গ্রহে ও চাদেঁ ইন্টারনেট নিয়ে পরিকল্পনা

বিশ্ব যত আধুনিক হচ্ছে আমরা ততোই ইন্টারনেট নামক জিনিসটা দিকে অগ্রসর হয়ে যাচ্ছি। একসাথে অনেকগুলো কম্পিউটার নেটওয়ার্কের কার্যক্রমই হলো ইন্টারনেট। ইন্টারনেট ছাড়া পৃথিবীতে এক নেটওয়ার্কের মধ্যে যুক্ত করেছে।

ইন্টারনেটকে সাধারণত আমরা নেট বলে থাকি। ইন্টারনেট শব্দটি এসেছে মূলত ‘ইন্টারকানেক্ট’ এবং ‘নেটওয়ার্ক’ এই দুটি শব্দের সমন্বয়ে। ইন্টারনেট শব্দের অর্থ হলো অন্তর্জাল। ইন্টারনেট পুরো পৃথিবীতে একটা পরিবারের মত করে তুলেছে।

ইন্টারনেট আমাদের জীবনে বন্ধুর মতো। আমাদের জীবনে ইন্টারনেটের অবদান অস্বীকার করার মতো নয়। ইন্টারনেট আমাদের জীবনে নানা উপকারে আসে। ১৯৬০ সালে প্রথম ইন্টারনেট এর সূচনা হয়েছিল। আমেরিকান সামরিক বাহিনীর গবেষণা সংস্থা আরপা (অ্যাডভান্স এই রিসার্চ প্রজেক্ট এজেন্সি ARPA) পরীক্ষামূলকভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণাগার এর মধ্যে যোগাযোগের ব্যবস্থা গড়ে তুলে। তারা এটির নাম দেয় আরপানেট (অ্যাডভান্স রিসার্চ প্রজেক্ট এজেন্সি নেটওয়ার্ক ARPANET)। এই আর্পানেট এর মাধ্যমে এসেছে আমাদের আজকের এই ইন্টারনেট। ১৯৬৯ সালে ২৯শে অক্টোবর প্রথম আরপানেটের মাধ্যমে ইন্টারনেট একটি নোড থেকে অন্য একটি নোবেল ম্যাসেজ পাঠায়। ১৯৮৯ সালে আইএসপি দ্বারা ইন্টারনেট সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। ১৯৯০ এর পরবর্তী সময় থেকে পশ্চিমা বিশ্বে ইন্টারনেট ব্যাপক বিস্তৃতি লাভ করে।

ইন্টারনেটের জনক বলা হয় ভিনটন জি কার্ফ। তিনি তার এই উপাধিটি আমেরিকান কম্পিউটার বিজ্ঞানী রবার্ট কানের সাথে ভাগ করেছেন। ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অ্যাডভান্স রিচার্জ প্রজেক্ট এজেন্সিতে প্রযুক্তি বিকাশ করতে কাজ শুরু করেন।

আমরা যদি কয়েক বছর আগের সময় দেখি, তখন দেখা যাবে যে ইন্টারনেটের ব্যবহার এতো অধিক পরিমাণে হতো না। তবে এখন ইন্টারনেট ব্যবহার ও এর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। প্রথমাবস্থায় ইন্টারনেট শুধুমাত্র বৈজ্ঞানিক গবেষণায় ইত্যাদি কাজে ব্যবহার করা হতো। কিন্তু এখন সর্ব সাধারন মানুষ ইন্টারনেটের ব্যবহার করতে জানে। ইন্টারনেট আমাদের জীবনকে অনেক সহজ করে দিয়েছে। ইন্টারনেটের ব্যবহার এখন প্রায় সকল ক্ষেত্রেই হয়। ইন্টারনেটের ব্যবহার করে আমরা,-
•নিজেদের বিনোদন দিতে পারি।
•ব্যাংকের কাজ সম্পন্ন করতে পারি।
•ইন্টারনেট আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক সহজ করে দিয়েছে।
•শিক্ষার ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের ব্যবহার প্রচুর। ঘরে বসেই যে কোন বিষয় সম্পর্কে আমরা জ্ঞান অর্জন করতে পারি।
•জরুরী ভিত্তিতে ইমেইল আদান-প্রদান করতে পারি
•বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের লোকেদের সাথে যোগাযোগ করা যায় এই ইন্টারনেটের মাধ্যমে।
•বর্তমানে অনলাইনে পড়াশোনার ক্ষেত্রে ইন্টারনেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
•ঘরে বসে বিনা খরচে অনলাইনে নিউজ পড়া যাচ্ছে।
•ঘরে বসেই যে কোন বিল পেমেন্ট ও রিচার্জ করা সম্ভব হয়ে গেছে।
•অনলাইন থেকে অনেক লোকেরা টাকা আয় করার সুযোগ পাচ্ছে।
এই সুবিধাগুলো ছাড়াও ইন্টারনেট ব্যবহারের অনেক সুবিধা রয়েছে।

বর্তমানে প্রায় সব দেশেই ইন্টারনেটের ব্যবহার শুরু হয়ে গিয়েছে। বাংলাদেশে ইন্টারনেটের ব্যবহার শুরু করা হয় ১৯৯৩ সালে এবং তা সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয় ১৯৯৬ সালে। বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে চীন। দ্বিতীয় ভারত ও তৃতীয় যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী দেশ গুলোর মধ্যে পঞ্চম স্থানে অবস্থানরত। বর্তমানে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১১ কোটিরও বেশি।

যুগের সাথে সাথে ইন্টারনেটের প্রভাব দিন দিন বেড়েই চলেছে। এখন মহাকাশ থেকে ইন্টারনেটের ব্যবহার করা যাবে এমন ব্যবস্থা করে দিয়েছেন ইলন মাস্ক নামক একজন বিজ্ঞানী। তার কম্পানি ‘স্পেস এক্স’ স্যাটেলাইট থেকে ইন্টারনেট সেবা দিতে যাচ্ছে। তারা এই সেবাটির নাম দিয়েছে “স্টারলিংক”। তারা সহজেই ইন্টারনেট সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার জন্য 700 কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে পাঠানোর পরিকল্পনা করেছেন। এই বিষয়ে ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছেন, তারা 250 পাউন্ড এর চেয়েও কম ওজনের 67 কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে পাঠাতে চান। তাদের লক্ষ্য হলো মহাকাশ থেকে কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে সুবিধা দেওয়া। এই সেবা দেওয়া শুরু হলে ইন্টারনেট জগতে এক বিরাট পরিবর্তন আসবে। এই প্রতিষ্ঠানকে ১০০ কোটি মার্কিন ডলার টাকা দিয়েছেন গুগল ও ফিডেলটি। এ টাকা বিনিয়োগের ফলে স্পেসএক্সের ১০০ শতাংশের মালিকানার পেয়ে যায় গুগোল ও ফিডেলটি। আগামী 12 বছরের মধ্যে মঙ্গল গ্রহে বসতি স্থাপন করতে চান স্পেস এক্স এর প্রতিষ্ঠাতা ইলেন। সেখানে একটি সংস্থাপন করার জন্য কাজ করছে স্পেস এক্স। এছাড়া বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট-সেবা দেওয়ার জন্য স্যাটেলাইট ও কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে সেবা দিয়ে যাচ্ছে স্পেস এক্স।

স্পেসএক্স ছাড়াও মহাকাশে কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠানোর আর একটি প্রকল্প নিয়ে কাজ করেছে ওয়ানওয়েব নামক একটি কৃত্রিম উপগ্রহ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানটিকে বিনিয়োগ করেছে রিচার্ড ব্র্যানসনের ভার্জিন গ্রুপ এবং মার্কিন চিপ নির্মাণপ্রতিষ্ঠান কোয়ালকাম। মহাকাশ থেকে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সুবিধা দেওয়ার জন্য কাজ করছে এই প্রকল্পটি। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে, সারা বিশ্বে ইন্টারনেট সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার জন্য 648 কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে ওয়ানওয়েব। বর্তমানে প্রায় ৩০০ কোটি মানুষ এখনো ইন্টারনেট থেকে বঞ্চিত। রিচার্ড ব্র্যানসন বলেন, যেসব এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া সম্ভব মনে করা হতো সেই ৩০০ কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে ইন্টারনেট।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also
Close
Back to top button