fbpx
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

যুগের তালে সাদা-কালো পৃষ্ঠা থেকে মোবাইল ফোনে কমিক্স বুক

আমরা অনেকেই কমিক বই পড়তে পছন্দ করি। কমিক হচ্ছে এক ধরনের চিত্র কথা। এখানে চিত্র অনুবর্তী ও পাশাপাশি প্যানেলের শব্দ বেলুনের মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু লেখা সংক্ষেপে বর্ণনা করা হয়ে থাকে। প্যানেলের বর্ণনায় গতি আনে এর আকার এবং অঙ্কন। কমিক্স বুক শব্দটি এসেছে আমেরিকার কমিক্স বই এর কমিক্স স্ট্রিপ থেকে। কমিক্সের সাধারণ চিত্রের মাধ্যমে তৈরি হয় কার্টুন।

কমিক্সের ইতিহাস বিশ্বের একেক অঞ্চলে একেক রকম ভাবে অগ্রসর হতে থাকে। বিভিন্ন পুরানো সংস্কৃতিতেও কমিক্সের ইতিহাস পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞরা লাসকো গুহাচিত্র কে কমিক্সের প্রাথমিক ইতিহাস হিসেবে চিহ্নিত করেন।রোমের ট্রাজালের কলাম ছিল কমিক্স ছাপার ইতিহাসের অন্যতম একটি উদাহরণ। গ্রিক, ফিজেস,মিশরীয় হায়ারোগ্লাফিক্স এবং চিত্রিত পান্ডুলিপিতে অনুক্রমিক চিত্র এর ব্যবহার করা হতো। বাইবেলের চিত্রগুলি নিরক্ষরদের কাছে শিক্ষা তুলে দেওয়ার জন্য খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা অনুবর্তী চিত্রের ব্যবহার করতেন।
কমিক্স প্রথম আবিষ্কার করেন উইলিয়াম হোগার্থ। তার লেখা প্রথম কমিক্স যার নাম ছিল “এ রাকস প্রগেস”। এটি লেখা হয় আধুনিক মূল্যবোধের অনুসরণে। শিল্প বিপ্লবের অগ্রগতির ফলে মুদ্রণ কৌশল বিকাশ পায়,তখন ম্যাগাজিন এবং সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।এই প্রকাশনা গুলি মন্তব্য করার মাধ্যম হিসেবে চিত্রের ব্যবহার করতো যা ১৮৪২ সালে কার্টুন হিসেবে পরিচিতি পায়। এরপর থেকেই শিল্পীরা চিত্রের অনুক্রম ব্যবহারের জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন। উনিশ শতকের আগেও কমিক্স স্ট্রিপট স্ফটিক আকারে বের করা হয়নি।‌

১৮২৬ সালে প্রকাশিত “দ্যা গ্লাসগো লুকিং গ্লাস” কে চূড়ান্ত প্রথম কমিকস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এখানে আধুনিক কৌতুকের সব ধরনের উপাদান বিদ্যমান ছিল,শিরোনাম এবং ধারাবাহিক উপস্থিত ছিল। রডল্ফ ট্যাপার ছিলেন একজন অন্যতম কমিকস লেখক। তিনি ওই সময় অনেক প্রভাবশালী কমিক লেখক হিসেবে বিবেচিত ছিলেন। তার লেখা কমিকস গুলো ওই সময়ে প্রচুর বিস্তৃতি লাভ করে।

বিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ফ্রান্স বেলজিয়াম জাপান এই দেশগুলোতে কমিকসের ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। আমেরিকায় ১৮৪২ সালের মুদ্রণ হয় “হার্ডকভারে দ্যা অ্যাডভেঞ্চারস অফ মি ওবাদিয়াহ ওল্ডবাক”। এই কমিক্সটি মার্কিন কমিকসের আদিরূপ হিসেবে পরিচিত। ইতিহাসবিদদের কথা অনুসারে “ফেমাস ফানিজ: অ্যা কার্নিভাল কমিকস” প্রথম সত্তিকারের মার্কিন কমিকসের উদাহরণ। ১৯৩৮ সালে জো শুষ্ঠার ও জেরি সিগেল মিলে “সুপারম্যান” কমিকসটি তৈরি করেন।মার্কিন কমিক বুক এর সোনালী সূচনা হয় ১৯৩৮‌ সালে সুপারম্যান কমিক বুক টি দিয়ে। এসময় কমিক বুক এর সর্বোচ্চ বিক্রি হয়। কমিক বুকের রৌপ্য যুগের সূচনা হয় হাজার ১৯৫৬ সালে এবং সমাপ্তি হয় ১৯৬০ দশকের শেষের দিকে যখন মার্ভেল কমিকস স্ট্যান লি,ফ্যান্টাস্টিক ফোর ও স্পাইডারম্যান কমিকস উপস্থাপন করা হয়। ব্রোঞ্জ যুগ ১৯৭০ শুরু থেকে ১৯৮০দশকের মধ্যভাগ পর্যন্ত ছিল। কমিকস বইয়ের আধুনিক যুগ ১৯৮০ এর মধ্যভাগ থেকে বর্তমানে চলছে।

ফ্রান্স ও বেলজিয়ামে কমিক এর ইতিহাস ব্যাপক। ফরাসি ভাষায় কমিকস কে “বান্দে দেসিনি” ও ওলন্দাজ ( বেলজিয়ামের ভাষা) ভাষায় এটাকে “স্টিপ” বলা হয়। বান্দে দেসিনি নামটি এসেছে ড্রন স্ট্রিপ থেকে যার অর্থ ফিল্ম স্ট্রিপের‌ চিত্র ধারার বিপরীত। ফরাসি পণ্ডিতদের কাছে “শর্মা ন্যুভিয়েম শিল্প” কমিক্সের স্বাতন্ত্র হিসেবে প্রচলিত কারণ এতে কমিকসের ধারণা ও আলোচনা সমালোচনা করা হয়েছে। দেশের জনসংখ্যা অনুযায়ী ফ্রান্স ও বেলজিয়ামে প্রচুর পরিমাণে কমিক ছাপানো হয়। এসব দেশে বেশিরভাগ লেখকের বইয়ের প্রকাশনা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

১৮’শ শতাব্দীতে জাপানে প্রথম কমিকস প্রকাশিত হয়। এতে ঐতিহাসিক ঘটনাবলী লোকসাহিত্য কিংবদন্তি এবং ছোটগল্প থাকতো। ১৭৭৫ সালে প্রকাশিত হয় “কিনকিন সেন্সেই এইগা নু ইয়ুম”। এর লেখক ছিলেন কইকাওয়া হারুমাশির”‌এই কমিকসটি দ্বারা জাপানে কমিকসের সূচনা ঘটে। জাপানি কমিক্স বই এর বর্তমান রূপ ধারণ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সে সময় কমিকস বুক গুলো সাদাকালো পৃষ্ঠাতে মুদ্রণ করা হতো।

বর্তমানে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির কারণে কমিকস প্রকাশনাসমূহ তাদের কমিক সমূহ ডিজিটাল পদ্ধতিতে অনলাইনে প্রকাশ করছেন। ফলে ওয়েবকমিকস বিস্তৃতি লাভ করছে। সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রকাশনা হল কমিক্সোলজি। তবে জনপ্রিয়তা লাভের পাশাপাশি কিছু কিছু প্রকাশনা বন্ধ ও হয়ে গিয়েছে।

আরো দেখুন

সমবিষয়ক আর্টিকেল

Leave a Reply

Your email address will not be published.